পুলিশের সঙ্গে মাঠে কারা?

একটা সময় ছিল পুলিশকে নিজেদের ক্যাডার বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করেছে একটি রাজনৈতিক দল। আবার পুলিশের সঙ্গে থেকে বিরোধীপক্ষকে দমানোর জন্য হামলা ও মারধর করতেন রাজনৈতিক দলটির নেতাকর্মীরা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু এই দৃশ্য বদলায়নি। পটপরিবর্তন হলেও দাবি আদায়ের কর্মসূচিকারীদের দমনে পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন গোষ্ঠীকে এখনো দেখা যায়। সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের কর্মসূচি চলাকালে তাদের রাজপথ থেকে সরিয়ে দিতে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেন কিছু রাজনৈতিক নেতামকর্মী। দলীয় কোনো ব্যানারে না হলেও ধারণা করা যায় বর্তমান সরকারের অনুষঙ্গ বা সমর্থনকারী তারা।

গত শুক্রবার দুপুরে জুরাইনে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ও পেছন থেকে একদল মানুষ রিকশাচালকদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হাতে ছিল লাঠি, ইটপাথরসহ নানা কিছু। তারা পুলিশের সঙ্গে থেকে হামলা ও মারধরের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে।

জুরাইনে পুলিশের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের সংঘর্ষের বিষয়ে ডিএমপির শ্যামপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চালকদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় এলাকার লোকজন আমাদের সঙ্গে ছিল। সেখানে কে কোন দলের বা কারা কী করে, বিষয়টি আমরা জানি না। এ ছাড়া কোনো এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে, আগুন জ্বালিয়ে, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হয়, এমন কাজ করলে এলাকার মানুষ এমনিতেই ধাওয়া দেয়। এখানে কাউকে ডাকা হয়নি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার জুরাইনে পুলিশের সঙ্গে রিকশাচালকদের যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরাও জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে ওয়ার্ড যুবদলের নেতা এবং সমন্বয়করাও জড়িত। এলাকার যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের তারা ধাওয়া দেন।

এদিকে জুরাইনে সংঘর্ষের ঘটনার দিন ব্যাটারিচালিত রিকশার পক্ষে মো. আশরাফুল খান নামে একজন বলেন, ‘আমরা যারা এখানে এসেছি, কেউ কোটিপতি না, রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। পেটের দায়ে পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য অনেক ছাত্রসমাজ রিকশা চালায়।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখা গেছে, যুবদলের শতাধিক নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে যাচ্ছেন। সামনের সারির ১২ জনের মধ্যে ছয়জনের হাতে লাঠি রয়েছে। রিকশাচালকদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতারা ঢুকে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছেন, তাই চালকদের সরিয়ে দিতে এমন মিছিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ‘দ্য রিভিলিয়’স টিম অব জুরাইন’ নামে একটি ফেসবুক পেজে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক জাফিয়ান হৃদয় নামের একজন কয়েকটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘৭ মিনিটে জুরাইন সড়ক কিলিয়ার’। হৃদয় যে ছবিগুলো শেয়ার করেন, সেখানেও পুলিশ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের দেখা যায়। অন্য একটা ফেসবুক পোস্টে কামরুল হাসান সাইমুন নামের একজন লিখেছেন, ‘তানভির আহম্মেদ রভিন ভাইয়ের নির্দেশে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার জন্য অটোরিকশা নামধারী সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে আমরা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কদমতলী থানা যুবদল।’ এই পোস্টে যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে হলুদ পাঞ্জাবি পরা একজন হাতে ইশারা দিচ্ছেন গাড়ি চলাচলের।

জুরাইনে পুলিশের পাশে থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা রিকশাচালকদের ধাওয়া ও মারধরের বিষয়ে বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের বলা আছে ‘কোনো ধরনের লাঠিয়াল বাহিনী হওয়া যাবে না’। জুরাইনে যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে এলাকাবাসী পুলিশের পাশে থেকে কাজ করেছে। সেখানে কয়েকজন নেতাকর্মীকে দেখা গেছে। তবে তারা এলাকার বিশৃঙ্খলকারীদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এখানে কোনো বাহিনী বা ক্যাডার হিসেবে কোনো নেতাকর্মী যাননি। বিএনপি কখনো ছাত্রলীগ-যুবলীগের মতো ক্যাডার বাহিনী নয়।

জুরাইনে পুলিশের পাশে থেকে কারা রিকশাচালকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মাদ ছালেহ উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সড়ক ও রেললাইন থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের সরিয়ে দিতে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসী ছিল। এখানে অন্য কোনো দল বা সংগঠনের কেউ ছিল কি না আমার জানা নেই।’