বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি গ্রুপের উদ্বেগ

শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্যের সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ (এপিপিজি)। বাংলাদেশের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যুক্তরাজ্যকে নতুন করে বৈশ্বিক সমস্যায় টেনে নিয়ে যেতে পারে বলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিকে সতর্ক করেছে সংগঠনটি।

ডেভিড ল্যামির কাছে বাংলাদেশে ‘ইসলামি চরমপন্থী’দের উত্থানসহ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন চিঠি আকারে দিয়েছে তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের খবরে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

এপিপিজির চেয়ারম্যান টোরি এমপি অ্যান্ড্রু রোসিনডেল বলেন, ‘কমনওয়েলথের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের প্রভাবিত করে এমন বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে আমাদের প্রচেষ্টার একটি পদক্ষেপ এই প্রতিবেদন।

এই প্রতিবেদনের ফলাফল বাংলাদেশ ও কমনওয়েলথের সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকার, দাতব্য সংস্থা এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের কাছে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

এপিপিজি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে দু’হাজারের বেশি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। যেখানে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিচার ব্যবস্থাকে ‘অস্ত্রে পরিণত করেছে’।

প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে, সহিংসতা ও অস্থিরতার পরও, শেখ হাসিনা সরকারের পতন অনেকের জন্য আনন্দ এবং আশার বাণী নিয়ে এসেছিল। কিন্তু এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে আইনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সংস্কৃতির অবসান ঘটানো এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে জানায় এপিপিজি। তাদের মতে, এটি করতে ব্যর্থ হলে তা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ভালো হবে না। 

এপিপিজি বলেছে, তারা তথ্য পেয়েছে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক বিচারপতি, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যাপকহারে হত্যা মামলা করা হচ্ছে। তবে এসব মামলার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আগস্টের শেষ নাগাদ এক হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর তুলে ধরে প্রতিবেদনে ব্রিটিশ এ সংসদ সদস্যরা জানায়, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে শেখ হাসিনার পতন ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের তিন মাস পরও বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক রয়ে গেছে।

গত কয়েক মাসে সংখ্যালঘুদের যেভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, কট্টরপন্থী ইসলামপন্থীরা রাজনৈতিকভাবে ক্রমেই প্রভাবশালী ও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মন্ত্রিসভায় ট্রেজারি মিনিস্টার হিসেবে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক।