১১ বছরের বেশি সময় আগে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকায় হেফাজতের সমাবেশে গণহত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫৯ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়েছে। হেফাজতে ইসলামীর পক্ষে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ অভিযোগটি দায়ের করা হয়। এতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক সেনাপ্রধান (তখন বিজিবির মহাপরিচালক) আজিজ আহমেদ, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (তখন ডিএমপি কমিশনার) বেনজীর আহমেদ, র্যাবের তখনকার মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান, পুলিশের তখনকার মহাপরিদর্শক হাছান মাহমুদ খন্দকার, শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব তারিক আহমেদ সিদ্দিককেও আসামি করা হয়েছে।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরসহ আশপাশের এলাকার হৃদয়বিদারক, মর্মান্তিক ও ভয়াবহ দৃশ্য সারা পৃথিবীর বিবেকবান মানুষকে কাঁদিয়েছে। বাংলাদেশের সব নাগরিক সেই ভয়ংকর দৃশ্য অবলোকন করেছে যে, কীভাবে মিডিয়াকর্মীদের বের করে, বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে। একযুগ ধরে আমরা সেই দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছি। অনেক শহীদ পরিবার তাদের আপনজন শহীদ হওয়ার পর প্রিয়জনের লাশটাও খুঁজে পায়নি।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর অনেককে পুলিশের নির্যাতন থেকে আত্মরক্ষার জন্য পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে বছরের পর বছর। অনেকে আর্থিক, মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ মে ভয়াবহ নারকীয় হত্যাকা-ের দিন। এটি বাংলাদেশের মানুষ ও ইতিহাসের জন্য একটি অভিশপ্ত দিন। আমরা মনে করি, এই অভিশাপ থেকে মুক্তির উপায় হলো এই ঘটনার যারা কুশীলব এবং হত্যাকারী যারা, সব হত্যাকারী এবং জড়িতদের উপযুক্ত আইনের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনতে পারলে বাংলাদেশ ও দেশের মানুষ অভিশাপমুক্ত হবে। সেই অভিপ্রায়ে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসেছি।’