দেশে নভেম্বরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু দেড়শোর ঘর ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে আরও ১০ জন মারা গেছে। এ নিয়ে এ মাসে এখন পর্যন্ত মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১৫৬ জনে। অর্থাৎ গত ২৬ দিনে দৈনিক গড়ে ছয়জন করে মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ বছর জুন থেকেই ধারাবাহিকভাবে মৃত্যু বাড়ছে। জুনে মৃত্যু ছিল আটজনের। এরপর জুলাইয়ে ১৪, আগস্টে ৩০, সেপ্টেম্বরে ৮৭, অক্টোবরে ১৩৫ ও এ মাসে সর্বোচ্চ ১৫৬ জন মারা গেছে।
নতুন যে ১০ জন মারা গেছে, তাদের মধ্যে সাতজনই নারী ও তিনজন পুরুষ। সর্বোচ্চ তিনজন করে মারা গেছে ঢাকা উত্তর সিটি ও বরিশাল বিভাগে। এরপর দুজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি এবং একজন করে চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে মারা যায়। মৃতদের মধ্যে ৬-১০ বছর বয়সী এক ছেলেশিশু ও ১১-১৫ বছর বয়সী এক কন্যাশিশু রয়েছে।
এ নিয়ে এ বছর ডেঙ্গুতে মারা গেল ৪৭১ জন। এ সংখ্যা দেশে ডেঙ্গুর ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জন মারা গেছে গত বছর। এরপর ২০২২ সালে ২৮১ জন, ২০১৯ সালে ১৭৯, ২০২১ সালে ১০৫, ২০০০ সালে ৯৩, ২০০২ সালে ৫৮ ও ২০০১ সালে ৪৪ জন ডেঙ্গুতে মারা যায়। বাকি বছরগুলোর মধ্যে পাঁচ বছর ডেঙ্গুতে কেউ মারা যায়নি এবং অন্য বছরগুলোয় ১-২৬ জনের মধ্যে মৃত্যু ওঠানামা করেছে।
এ বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৯৯ জনের। এরপর ঢাকা উত্তরে ৮৭ জন, বরিশাল বিভাগে ৫২, চট্টগ্রামে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৭, ঢাকায় (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৮, খুলনায় (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৬, ময়মনসিংহে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৩, রাজশাহীতে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬, রংপুরে ২ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ১ জন মারা গেছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৯৯০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৫৭ জন পুরুষ ও ৩৩৩ জন নারী। রোগীদের মধ্যে ০-৫ বছর বয়সী ৫৪, ৬-১০ বছর বয়সী ৬০ ও ১১-১৫ বছর বয়সী ৫২ জন শিশু রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভর্তি হয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ৩২৬ জন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ১৮৩ ও ঢাকা দক্ষিণে ১৪৩ জন ভর্তি হয়েছে। এরপর ঢাকা বিভাগে ২৩৪ জন, খুলনা বিভাগে ১৪৬, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৩, বরিশাল বিভাগে ৮১, রাজশাহী বিভাগে ৫৯, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৮, রংপুর বিভাগে ২ ও সিলেট বিভাগে ১ জন ভর্তি হয়েছে।
এ নিয়ে এ মাসে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৬ হাজার ৮৯৮ জন। এটা বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগীর মাস। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রোগী পাওয়া গেছে গত অক্টোবরে ৩০ হাজার ৮৭৯ ও তৃতীয় সর্বোচ্চ রোগী গত সেপ্টেম্বরে ১৮ হাজার ৯৭ জন।