হাজার হাজার দর্শকের সামনে গেয়েছেন, মুগ্ধতায় বুঁদ হাজার দর্শক প্রকাশ করেছেন নানা প্রতিক্রিয়া, মুখোমুখি হয়েছেন বৈচিত্রময় অভিজ্ঞতার। তবে এবারের অভিজ্ঞতা একেবারে ভিন্ন রকমের, যেটার ভাষা আত্মস্থ করতে পারেননি দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ওয়ারফেইজ ব্যান্ডের প্রধান ভোকালিস্ট পলাশ নূর। কেননা এবার তিনি গাইলেন মাঝ আকাশে চলমান বিমানে। যাত্রীরা উপভোগ করলেন সুর।
গত ২৪ নভেম্বর ছিল বেসরকারি এয়ারলাইন্স এয়ার অ্যাস্ট্রার দ্বিতীয়বর্ষ পূর্তি। এদিন দেশীয় ডোমেস্টিক বিমান সংস্থাটি আয়োজন করে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এই উদ্যোগেরই অংশ হয়েছিলেন পলাশ নূর। এদিন তিনি বিমান সংস্থাটির যাত্রীদের গানে গানে মুগ্ধ করেন। যাত্রীরাও বেশ উপভোগ করেন মাঝ আকাশে সুর।
গানের আয়োজন ছাড়াও এদিন এই আয়োজনে যুক্ত ছিল ম্যাজিক। আয়োজন করা হয়েছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা, ঢাকা-কস্কবাজার-ঢাকা, ঢাকা-সৈয়দপুর-ঢাকা রুটের দোমেস্টিক বিমানে।
এ বিষয়ে পলাশ নূর দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের দেশে মনে হয় আমিই প্রথম ব্যক্তি যে কি না মাঝ আকাশে গান গাইলাম। হয়তো বিষয়টা সহজ মনে হবে কিন্তু সহজ নয়, ইঞ্জিনের সাউন্ডে গান শোনাটাও সহজ কাজ নয়। আমরা একটা ব্লুটুথ সাউন্ডবক্স নিয়েছিলাম। যেন অন্তত গান শোনা যায়, সেটার সঙ্গে ইনস্ট্রুমেন্ট যুক্ত করেছিলাম। ফাইনালি যাত্রীরা আমাদের সুর গ্রহণ করেছেন, তাদের জার্নিটা উপভোগ্য হয়েছে।
গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ওয়ারফেইজ ব্যান্ডের মূল ভোকাল পলাশ বলেন, আমি আমার সঙ্গে যখন বিমান সংস্থাটি যোগাযোগ করে তখন তাদের আমি এই ধারণাটি দেই,তারা এটা গ্রহণ করে। আর বিমানে নতুন ধরণের অভিজ্ঞতা হয়েছে, কেননা যখন দেখলাম কোনো বাচ্চা কাঁদছে। তখন গাইলাম টুইংকেল টুইংকেল লিটল স্টার, বাচ্চার কান্না থেমে গেল। এই জার্নিতে যাত্রীদের আমি আইয়ুব বাচ্চু, আমাদের ব্যান্ড ও লোক গান শুনিয়েছি। দর্শকদের যে ধরনের প্রতিক্রিয়া পেয়েছি তা আমার পক্ষে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
এই যাত্রপথের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন মডেল ও অভিনেত্রী লামিয়া তাবাসসুম চৈতী। তিনি বেশকিছু ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। এই অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে ফেসবুকে লিখেছেন, ১৫ হাজার ফুট ওপরে ইতিহাস রচিত হলো আর আমি সৌভাগ্যবতী কেননা আমি সেই ইতিহাসের সাক্ষী।