হাসনাত-সারজিসদের গাড়িবহরে ট্রাকের ধাক্কা

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলমের গাড়িবহরে থাকা একটি গাড়িতে ট্রাক ধাক্কা দিয়েছে। এতে গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ হতাহত হননি। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলা অংশের চুনতি হাজী রাস্তার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা বলে অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদ। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এমন অভিযোগ করেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চট্টগ্রামে নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি চুনতি ফারাঙ্গা এলাকা থেকে ফিরছিলেন হাসনাত ও সারজিস। তাদের গাড়িবহরে ১২টি মোটরসাইকেল, দুটি কার ও একটি পাজেরো জিপ ছিল। সাইফুলের গ্রামের বাড়ি থেকে ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি হাজী রাস্তার মাথা এলাকায় বহরের গাড়িগুলো গ্রামীণ সড়ক থেকে মহাসড়কে উঠছিল। প্রথমে ১২টি মোটরসাইকেল ও পাজেরো জিপটি মহাসড়কে ওঠে। ওই পাজেরোতে হাসনাত ও সারজিস ছিলেন। পরে বহরের একটি প্রাইভেট কার মহাসড়কে উঠতেই চট্টগ্রামগামী মালবাহী ট্রাক কারটির সামনের অংশে ধাক্কা দেয়। এতে কারটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কারটিতে হাসনাত-সারজিসের কয়েকজন সফরসঙ্গী ছিলেন।

দুর্ঘটনার পর চালক ট্রাক নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে বহরে থাকা মোটরসাইকেল আরোহীরা ধাওয়া করে চালক ও চালকের সহকারীসহ (হেলপার) ট্রাকটি আটকান। পরে তাদের লোহাগাড়া থানা পুলিশের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর হাসনাত ও সারজিস 
লোহাগাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হন। ট্রাকের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত কারটিতে চট্টগ্রামের সমন্বয়কেরা ছিলেন বলে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা।

ঘটনাটি নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদ। তাতে তিনি লিখেন, ‘নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের কবর জিয়ারত করে ফেরার পথে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে 

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি ইউনিয়নের হাজী রাস্তার মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের গাড়িবহরে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে চালক ময়মনসিংহ থেকে কক্সবাজারে মালামাল খালাস করে আসার কথা বললেও মালামাল খালাসের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বহরে থাকা একটি গাড়ির সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা লাগে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। তবে গাড়ির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাকটি লোহাগাড়া থানা পুলিশ আটক করেছে। তদন্তসাপেক্ষে পুলিশ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে।’

জানা গেছে, লোহাগাড়ায় দুই দফা জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আইনজীবী সাইফুল ইসলামের মরদেহ উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ফারাঙ্গা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম সাইফুলের গ্রামের বাড়িতে যান। তারা সাইফুলের কবর জিয়ারত করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে করে সান্ত্বনা দেন।