বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার বিভিন্ন থানায় হত্যা মামলায় সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক ও কামরুল ইসলামের তিন দিন, সাবেক হুইপ আ স ম ফিরোজের দুদিন এবং সাবেক এমপি সোলায়মান সেলিমের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
গতকাল বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেলাল হোসেন উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সকালে পুলিশ তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে। যাত্রাবাড়ী থানার জান্নাতুল ফেরদৌস হত্যা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের তিন দিন, লালবাগে কলেজছাত্র খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ হত্যা মামলায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের তিন দিন এবং হাজী সেলিমের ছেলে ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান সেলিমের চার দিন এবং যাত্রাবাড়ী থানায় সাইদুর রহমান ইমরান হত্যা মামলায় সাবেক হুইপ আ স ম ফিরোজকে দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। চকবাজার থানায় হওয়া রাকিব হাওলাদার হত্যা মামলায় সোলায়মান সেলিমের আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। আনিসুল হকের ৭ দিন, কামরুল ইসলামের ১০ দিন, সোলায়মান সেলিমের দুই মামলায় ২০ দিন এবং আ স ম ফিরোজের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা। গতকালই সোলায়মান সেলিম এই প্রথম দফায় রিমান্ডে গেলেন আর দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে গেলেন কামরুল ইসলাম। তবে, আনিসুল হক ও আ স ম ফিরোজকে এর আগে কয়েক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়।
রিমান্ড শুনানির সময় সাবেক হুইপ আ স ম ফিরোজ আদালতের কাছে ন্যায়বিচার আবেদন করে এবং কামরুল ইসলাম নিজে অসুস্থতার কথা আদালতকে জানান। গতকাল সকালে বিগত সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিসহ ১৮ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। কয়েকজনকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ সময় আমির হোসেন আমুর আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, তার বয়স ৯০ বছর। তিনি অসুস্থ, দাঁড়াতে পারছেন না। তার বসার ব্যবস্থা করার অনুমতি চান। এ সময় আমুও বিচারককে মুখ নেড়ে বোঝান তিনি দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেন না। পরে আদালত তার বসার ব্যবস্থা করেন। কামরুল ইসলামের পক্ষে তার আইনজীবী বলেন, তিনি ঢাকা বার ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সদস্য। এজাহারনামীয় ১ থেকে ৩০ নম্বর আসামির নির্দেশে ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি তো ৩৫ নম্বর আসামি। তার বয়স ৭৬ বছর। এ বয়সে লাঠিসোঁটা নিয়ে কাউকে আঘাত করার বয়স না। তিনি ডায়াবেটিস, হার্টের রোগী ও ক্যানসারে আক্রান্ত। আগে এক মামলায় আট দিন রিমান্ডে ছিলেন। এবার রিমান্ডে নিলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এ সময় কামরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমি একটু বলব।’ তখন তিনি বলেন, ‘আমার বয়স ৭৬ বছর। আমি এক মামলায় আট দিনের রিমান্ড থেকে আসছি। আমি স্টমাক ক্যানসারের রোগী।