অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তথ্য গোপনের অভিযোগে বগুড়ার আলোচিত তুফান সরকারকে ১৩ বছর কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার বগুড়ার স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শহিদুল্লা এ রায় দেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়ার পাবলিক প্রসিকিউটর এস এম আবুল কালাম আজাদ বিকেল ৫টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তুফান সরকার বগুড়া শহরের চকসুত্রাপুর এলাকার মজিবর রহমান সরকারের ছেলে। তিনি শহর শ্রমিক লীগের সদস্য ছিলেন এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী।
২০১৭ সালে তুফান সরকার এক তরুণীকে ধর্ষণ করেন। সেই ঘটনা জানাজানি হলে ওই তরুণী ও তার মাকে ধরে এনে ‘চরিত্রহীন’ আখ্যা দিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেন। সে সময় ঘটনাটি দেশব্যাপী আলোচনায় আসে। পরে পুলিশ তুফান সরকারকে আটক করে। সেই সময় তুফান সরকারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। এরপর ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন দুদক বগুড়া কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম। এরপর ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
দুদক বগুড়ার আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ বলেন, মামলায় দুটি ধারায় তুফান সরকারের ১৩ বছরের সাজা হয়েছে। এ ছাড়া তার অবৈধ সম্পদ ১ কোটি ৫৯ লাখ ৬৮ হাজার ১৮২ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তুফান সরকার বর্তমানে পলাতক। গ্রেপ্তারের পর থেকে এ দন্ডাদেশ কার্যকর হবে।