বিশ্বজিৎকে যখন হত্যা করল তখন বিবৃতি কোথায় ছিল, ভারতকে রিজভী

ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারে ভারতের উদ্বেগ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, চিন্ময় বাংলাদেশের নাগরিক। সে অপরাধ করুক বা না করুক সেটি বাংলাদেশের আদালত দেখবে। ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে চিন্ময়কে মুক্তি দেওয়ার জন্য বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

ভারতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যুবলীগ-ছাত্রলীগ যখন বিশ্বজিৎকে হত্যা করল, তখন আপনাদের বিবৃতি কোথায় ছিল? আপনারা কি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন? ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে আপনারা কিছুই করতে পারবেন না।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে ‘ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মহানায়ক জিয়াউর রহমান গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভারত থেকে নদীর বান ছেড়ে দিয়ে যখন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা হলো। তখন তো শুধু মুসলমানদের ঘর ভেসে যায়নি, হিন্দুদেরও ঘর ভেসে গিয়েছিল। সেদিন তো ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের মায়া দেখলাম না। গত জুলাইয়ের আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার শিশু, তরুণ, কিশোরকে নির্বিচারে হত্যা করলো শেখ হাসিনা। তখনও তো আপনাদের মায়া দেখলাম না। সেই হাসিনাকে আপনারা আবার আশ্রয় দিলেন। আজকে সারজিস-হাসনাত বলছে- তাদের দুর্ঘটনার পেছনে ইসকনের হাত রয়েছে। এগুলো কি হচ্ছে? আপনারা কি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন? ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে আপনারা কিছুই করতে পারবেন না।

চিন্ময় ইস্যুতে শেখ হাসিনার বিবৃতিকে কুমিরের কান্না আখ্যা দিয়ে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজ চিন্ময়কে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করে ও তার মুক্তি দাবি করে গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার একটা স্টেটমেন্ট দেখলাম। সে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার হয়েছে। হঠাৎ করে ইসকন নামের একটি সংগঠনের তৎপরতা দেখা গেল। সেই তৎপরতার মধ্যে এই দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য যত রকম পদ্ধতি নেওয়া দরকার সেটা করা হচ্ছে বিভিন্নভাবে। আপনি মুগ্ধর, আবু সাঈদ, নাফিসের মতো ছাত্রকে হত্যা করতে পারেন। আর আজকে চিন্ময় গ্রেপ্তার হয়েছে বলে আপনি ভারতে বসে কুমিরের কান্না কাঁদছেন। এর জন্য আপনি কি ভারতের কাছ থেকে পুরস্কার পাবেন?

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহী। এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হাসানাত আলী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আলিম, জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এনামুল হক প্রমুখ।