চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত নির্মিত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নিষিদ্ধ হলো মোটরসাইকেল চলাচল। শুধু মোটরসাইকেল নয় ট্রেইলার চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে কারিগরি বিবেচনায়। এই দুই প্রকার বাহন ছাড়া বাকি ১০ প্রকার যান চলাচলের জন্য টোল নির্ধারণ করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অধিশাখা-১ এর উপসিচব মোহাম্মদ আবদুল আওয়ালের গতকাল বুধবারের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত সমাপ্ত হওয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। কিন্তু এর নির্মাণ ব্যয়, মেরামত ও রক্ষণা-বেক্ষণের জন্য টোল আদায়ের মাধ্যমে সরকারের ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হবে। তাই মোটরসাইকেল ও ট্রেইলার ছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের তিনটি পয়েন্টে ১০ ধরনের যান চলাচলের জন্য টোল নির্ধারণ করা হয়।
জিইসি থেকে পতেঙ্গা সি বিচ পর্যন্ত সিএনজি ৩০ টাকা, কার ৮০ টাকা, জিপ ১০০ টাকা, মাইক্রোবাস ১০০ টাকা, পিকআপ ১৫০ টাকা, মিনিবাস ২০০ টাকা, বাস ২৮০ টাকা, ট্রাক (চার চাকা) ২০০ টাকা, ট্রাক (ছয় চাকা) ৩০০ টাকা এবং কাভার্ড ভ্যান ৪৫০ টাকা হারে একবার যাতায়াতে টোল প্রদান করবে। অপরদিকে জিইসি থেকে আগ্রাবাদ পর্যন্ত সিএনজি ২০ টাকা, কার ৫০ টাকা, জিপ ৭০ টাকা, মাইক্রোবাস ৯০ টাকা, পিকআপ ১৩০ টাকা, মিনিবাস ১৮০ টাকা, বাস ২৫০ টাকা, ট্রাক (চার চাকা) ১৮০ টাকা হারে একবার যাতায়াতে টোল প্রদান করবে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় গত বছরের ১৪ নভেম্বর এই এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক সভায় মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী-সিডিএ এক্সপ্রেসওয়ের টোলের হার চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তবে ওই সময় এক্সপ্রেসওয়ে চালু হয়নি। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২৮ আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে গাড়ি চলাচল শুরু হয়। আর চালুর পরপরই একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজনের প্রাণহানি ঘটে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে জিইসি মোড় থেকে ওঠে পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন স্থানে নামার সুযোগ রয়েছে। আবার পতেঙ্গা থেকে ওঠে নগরের টাইগারপাস, লালখান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে নামার জন্য র্যাম্প রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় জিইসি মোড়, আগ্রাবাদ, টাইগারপাস, নিমতলা, কেইপিজেড, ফকিরহাট, সিইপিজেডে ওঠানামার নয়টি র্যাম্প থাকবে।
লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মুল অংশের কাজ শেষ হলেও এখনো র্যাম্প নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি। প্রকল্পটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে যাতে উঠতে পারে সেজন্য প্রথমে ১৪টি স্থানে র্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত ছিল। সম্প্রতি সিডিএ বোর্ড ৫টি র্যাস্প বাদ দিয়ে ৯টি পয়েন্টে র্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী কাজ চলছে। বর্তমানে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার দিয়ে উঠে পতেঙ্গায় যাওয়া যায় এবং আসার পথেও একই পথ অনুসরণ করা হয়। টাইগারপাস ও লালখান বাজার অংশে নামা বা উঠার রাস্তাটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।