গুনাহ মানুষকে সঠিক পথ থেকে দূরে ঠেলে দেয়। কবিরা বা বড় গুনাহের মধ্যে এমন কিছু গুনাহ আছে, যেগুলোতে লিপ্ত হওয়াকে কোরআন ও হাদিসে ধ্বংসাত্মক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটার জন্য পরকালে থাকবে ভয়াবহ শাস্তি। ধ্বংসাত্মক দশটি গুনাহ উল্লেখ করা হলো।
মানুষ হত্যা করা: মানুষ হত্যা করা জঘন্য অপরাধ। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করো না।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ৩৩)
শিরক করা: শিরক আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত অপরাধ। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সঙ্গে শরিক করা ক্ষমা করবেন না। এটা ছাড়া অন্য গুনাহ ইচ্ছে হলে ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করল, সে মারাত্মক গুনাহে লিপ্ত হলো।’ (সুরা নিসা: ৪৮)
জাদুটোনা করা: জাদু শেখা ও করা দুটোই গুনাহের কাজ। জাদুবিদ্যা শেখার প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা (দুই ফেরেশতা) যাকেই জাদুবিদ্যা শেখাত, তাকে বলে দিত যে তোমরা (জাদু শিখে) কুফুরি করো না। নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের জন্য পরীক্ষা।’ (সুরা বাকারা: ১০২)
সুদ খাওয়া: সুদি লেনদেনে জড়িত হওয়া আপান মায়ের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার মতো অপরাধ। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা দ্বিগুণের ওপর দ্বিগুণ সুদ খেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো, যেন তোমরা সুফল পাও।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৩০)
এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ: এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা ভয়ংকর অপরাধ। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই যারা অন্যায়ভাবে এতিমের সম্পদ গ্রাস করে, তারা আসলে নিজেদের পেটে আগুনই ভক্ষণ করে। শিগগিরই তারা প্রবেশ করবে জ¦লন্ত আগুনে।’ (সুরা নিসা: ১০)
দাম্ভিকতা: অহংকার ও দাম্ভিকতা মানুষের ব্যক্তিত্বকে শেষ করে দেয়। মহান আল্লাহ দাম্ভিক ও অহংকারীকে পছন্দ করেন না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা নাহল: ২৩)
সতী-সাধ্বী নারীকে অপবাদ দেওয়া: পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা সতী-সাধ্বী, সহজ-সরল মুমিন নারীদের প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ দেয়, তারা দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত। তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি।’ (সুরা নুর: ২৩)
কৃপণতা: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) ভাষণ দিলেন এবং বলেন, ‘তোমরা কৃপণতার ব্যাপারে সাবধান হও। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা কৃপণতার কারণে ধ্বংস হয়েছে। অর্থলোভ তাদের কৃপণতার নির্দেশ দিয়েছে, ফলে তারা কৃপণতা করেছে, তাদের আত্মীয়তা ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে, যখন তারা তাই করেছে এবং তাদের পাপাচারে প্ররোচিত করেছে, তখন তারা তাতে লিপ্ত হয়েছে।’ (আবু দাউদ)
লোভ: লোভ-লালসা মানুষকে বেপরোয়া করে তোলে। আর তা মানুষকে আল্লাহর বিধান অমান্য করে পাপাচারে মত্ত করে তোলে, ফলে মানুষ নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। কাব ইবনে মালিক আল-আনসারি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘকে ছাগলের পালে ছেড়ে দেওয়া হলে পরে তা যতটুকু না ক্ষতিসাধন করে, কারও সম্পদের লোভ এর চেয়ে বেশি ক্ষতিসাধন করে তার ধর্মের। (তিরমিজি)
দুনিয়ার আসক্তি: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘পার্থিব চিন্তা যাকে মোহগ্রস্ত করবে, আল্লাহ তার কাজকর্মে অস্থিরতা সৃষ্টি করবেন, দরিদ্রতা তার নিত্যসঙ্গী হবে এবং পার্থিব স্বার্থ ততটুকুই লাভ করতে পারবে, যতটুকু তার তকদিরে লিপিবদ্ধ আছে। আর যার উদ্দেশ্য হবে আখেরাত, আল্লাহ তার সবকিছু সুষ্ঠু করে দেবেন, তার অন্তরকে ঐশ^র্যমণ্ডিত করবেন এবং দুনিয়া স্বয়ং তার সামনে এসে হাজির হবে।’ (ইবনে মাজাহ)