কুমিল্লার লালমাইয়ে আওয়ামী লীগ কর্মী খোরশেদ আলম হত্যা মামলার এজারহারভুক্ত আসামি বিএনপি নেতার ছেলে ফাহিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সকালে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লা বিআরটিএ কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়। ফাহিম উপজেলার বেলঘর উত্তর ইউপির বিএনপির আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদের ছেলে। সে কুমিল্লা বিআরটিএ অফিসের ফিঙ্গার সেকসনে মাস্টররুলে অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করতেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার বেলঘর উত্তর ইউপির পালপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলম ও জসিম উদ্দিনের সাথে জমি বিক্রয় নিয়ে পূর্ব থেকে বিরোধ চলে আসছিল একই গ্রামের সাব্বির আহমেদের। গত ৫ আগস্ট বিকেলে দেশব্যাপী অস্থিতিশীলতার সুযোগে সাব্বির আহমেদ তার সঙ্গীয়দের নিয়ে দেশীয় তৈরি অস্ত্র দিয়ে খোরশেদ আলম ও জসিম উদ্দিনের উপর হামলা করে। হামলাকারীরা খোলশেদ আলমকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পুলিশি সহায়তা না পাওয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায়
গত ২৯ আগস্ট কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৯নং আমলী আদালতে এজাহারভুক্ত ৪ জনসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যার অপরাধে অভিযোগ দায়ের করেন নিহতের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন (২২)। আদালতের নির্দেশে গত ২২ অক্টোবর লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ মামলাটি এফআইআর করেন এবং তদন্তের উদ্যোগ নেন। ওই মামলার এজারহারভুক্ত আসামিরা হলেন, পালপাড়া গ্রামের মৃত মাওলানা ছালামত উল্যাহ একরামির ছেলে বিএনপি নেতা সাব্বির আহমেদ (৫৫), তার ছেলে ফাহিম (২৮), মৃত মোস্তফার ছেলে সালাউদ্দিন (৩৩) ও আবদুর রহিমের ছেলে আলমগীর হোসেন (২৪)।
বৃহস্পতিবার লালমাই থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা বিআরটিএ কার্যালয় অভিযান চালিয়ে ফাহিমকে গ্রেফতার করা হয়।
নিহতের ছেলে ইমরান হোসেন জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের প্রতিশোধ নিতে আমার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য অনেকদিন ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরেছি। পুলিশ আজকে এজাহারভুক্ত ৩নং আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে ১ ও ২নং সহ অন্যান্য আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করা জরুরি। আসামিরা এলাকায় থাকায় আমাদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
এ বিষয়ে লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, খোরশেদ আলম হত্যা মামলার এজারহারভুক্ত আসামি ফাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ উত্তোলন প্রক্রিয়াধীন।