১৭ বছর আগের ঘটনায় অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের কাছে ক্ষমা চাইলেন পুতিন

১৭ বছর আগে ২০০৭ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সঙ্গে এক বৈঠকে নিজের পোষা কুকুর নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। তবে পুতিনের কুকুরের উপস্থিতি অস্বস্তিতে ফেলেছিল অ্যাঞ্জেলা মার্কেলকে।

পরে মার্কেল জানিয়েছিলেন, বৈঠকের কক্ষে পুতিনের কুকুরের উপস্থিতি তাকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। অভিযোগ রয়েছে, পুতিন জানতেন যে মের্কেল কুকুর ভয় পান। তিনি ইচ্ছে করে বৈঠকে কুকুর নিয়ে গিয়েছিলেন। যদিও ঘটনার পরে পুতিন ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে সেই প্রসঙ্গ ফের উঠে এসেছে বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) পুতিনের কাজাখস্তান সফরের সময়। 

এতদিন পর সেই ঘটনার জন্য মের্কেলের কাছে ক্ষমা চাইলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গতকাল বৃহস্পতিবার কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, ‘আমি জানতাম না, তিনি কুকুরে ভয় পান।’

তিনি বলেন, ‘আমি আবারও তার কাছে ক্ষমা চাইছি। আমি তাকে কষ্ট দিতে চাইনি। আমি আমাদের কথোপকথনের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিলাম। যদি আপনি কখনো—আমি জানি এটি খুবই অসম্ভব—তবুও যদি আবার আসেন, আমি কোনো অবস্থাতেই আর এটা করব না।’

গত মঙ্গলবার প্রকাশিত আত্মজীবনীতে সেই ঘটনার কথা লিখেছেন মার্কেল। ২০০৭ সালে সোচি শহরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের ছবিতে দেখা যায়, পুতিনের কালো রঙের ল্যাব্রাডর প্রজাতির কুকুর কনি চারদিকে গন্ধ শুঁকছে আর জার্মান চ্যান্সেলর তার আসনে বসে অস্বস্তির হাসি মুখে নিয়ে বসে আছেন।

মার্কেল তার আত্মজীবনীতে ২০০৭ সালের এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি পুতিনের মুখ দেখে বুঝতে পারছিলাম তিনি বিষয়টি উপভোগ করছিলেন!’ পুতিন ওই বৈঠকে কুকুরটিকে ‘ক্ষমতার প্রদর্শন’ হিসেবে এনেছিলেন বলেই মনে করেন মার্কেল।

পুতিনের কুকুরের প্রতি দুর্বলতা প্রায় সবারই জানা। বহু বিদেশি অতিথির কাছ থেকে বিভিন্ন জাতের কুকুর উপহার পেয়েছেন তিনি। কনি নামে ওই ল্যাব্রাডর প্রজাতির কুকুরটি তাকে উপহার দেন সের্গেই শোইগু, তিনি পরে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী হয়েছিলেন।