ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবি এবং চট্টগ্রামে তরুণ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের ওয়াসা মোড়ে জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের সামনে ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
এ সময় কয়েকহাজার মুসল্লি বিক্ষোভ র্যালী করেন। যেটি নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের সামনে শেষ হয়। সমাবেশ থেকে আগামী সোমবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনার অফিস অভিমুখে লংমার্চ করার ঘোষণা দেন সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মুফতী হারুন ইজহার।
বক্তব্যে হারুন ইজহার বলেন, ‘হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন সংগঠন দাবি করেছে আইনজীবী সাইফুল হত্যার সাথে ইসকনের কোনো যোগাযোগ নাই। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ ইসলামপন্থি বিভিন্ন দল সংগঠন এবং তাদের নেতাদের সঙ্গে তারা বসতে চায়। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, এটা নতুন এক চক্রান্ত। শেখ হাসিনাকে বাংলার মাটি থেকে বিদায় করার পর এ দেশের ম্যাক্সিমাম হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করছে।’
ভারতের সামনে দুটি পথ আছে উল্লেখ করে মুফতি হারুন ইজহার বলেন, ‘হিন্দুস্থানকে তার অতীতের অবস্থান পরিবর্তন করে আমাদের সঙ্গে ডায়ালগে বসতে হবে এবং আগামী দিনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। হিন্দুস্থান যদি তার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে, বিভিন্ন সংগঠন ও কুকুরকে লেলিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে অরাজক পরিস্থিতি করতে চায়, তাহলে আমরাও হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত রাখব। বাংলাদেশে যে ষড়যন্ত্র হছে তার মাথা চিহ্নিত করতে হবে আপনাদের। ইতিমধ্যে হিন্দুস্থানের সঙ্গে ইসরাইলের যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করতে ইসরাইল ও ভারত যৌথ চক্রান্ত করে যাচ্ছে। আমাদের লড়াই সূদুরপ্রসারী। বাংলাদেশের কোনো হিন্দুর গায়ে আমাদের টোকাও পড়বে না।’
সমাবেশে হেফাজত নেতারা বলেন, দেশের পরাজিত শক্তি হিন্দুদের একটি অংশকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই দেশকে অস্থিতিশীল করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে ইসকন। মঙ্গলবার আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে যেভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেছে তাকে গৃহযুদ্ধ বাঁধানোর অপপ্রয়াস ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে? একই সঙ্গে পতিত ফ্যাসিবাদী ও তাদের প্রভুদের পাতানো সাম্প্রদায়িক উস্কানির ফাঁদে পা না দিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান হেফাজত ইসলামের নেতারা।
এদিকে নগরের কোতোয়ালী থানার পাথরঘাটা এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে নগরের পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডের জেলেপাড়া এলাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, জুমার নামাজের পরপর একদল লোক জেলেপাড়া কালীবাড়ি মন্দিরের সামনে জড়ো হয়। খবর পেয়ে আরেকটি পক্ষের লোকজনও সেখানে জড়ো হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে উভয়পক্ষকে শান্ত করে।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সেখানে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। আমরা তাদের বুঝিয়ে শান্ত করেছি। কোনো স্থাপনা ভাঙচুর বা কেউ আহত হয়নি।’