মন্দ ধারণা থেকে সাবধান

মন্দ ধারণার কারণে ভ্রাতৃত্ববোধ নষ্ট হয়ে যায়। এর কারণে নানা অন্যায় ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়তে হয়। তখন এর সঙ্গে সম্পৃক্তরা গুনাহগার হয়ে থাকে। এজন্য চিন্তাভাবনা করে চলতে হবে। কখনো কুচিন্তা কিংবা মন্দ ধারণা করা যাবে না। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা অধিক ধারণা থেকে দূরে থাকো। কারণ অনুমান কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাপ এবং তোমরা একে অন্যের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না। একে অন্যের গিবত কোরো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করতে চাইবে?’ (সুরা হুজরাত ১২)

অধিক ধারণা ও মন্দ ধারণা করা থেকে অন্যায়ের জন্ম হয়। মানুষ অনেক ক্ষেত্রে ভালো ধারণার পরিবর্তে মন্দকে প্রাধান্য দিতে ভালোবাসে। অন্যের সম্মান রক্ষার পরিবর্তে নিজের লাভ অনুসন্ধান করে। পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে মুসলমানের সম্মান ও ইজ্জত রক্ষার আদেশসহ অন্যের প্রতি অনুমান ও মন্দ ধারণা পোষণ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরস্পরের প্রতি সুন্দর ধারণার সৃষ্টি করা এবং সংশয়-সন্দেহ থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।

আমরা মাঠে-ময়দানে, মঞ্চে-টেবিলে হরহামেশাই ধারণাপ্রসূত কথা বলে থাকি। মিথ্যা ও অনুমানভিত্তিক কথা বলে আমিত্ব রক্ষা ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের চেষ্টা করে থাকি। অথচ পবিত্র কোরআনে এমন মন্দ ধারণার বশবর্তী হয়ে অন্যের বিরুদ্ধে মুখে কিছু উচ্চারণ তো দূরে থাক, মনে মন্দ ধারণা করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমরা ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ ধারণাভিত্তিক কথা সবচেয়ে বড় মিথ্যা। তোমরা একে অন্যের দোষ অনুসন্ধান কোরো না। পরস্পর হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণ কোরো না। পরস্পর শত্রুতা ও দুশমনি পোষণ কোরো না; বরং ভাই ভাই হয়ে থাকো।’ (সহিহ বোখারি)

মুসলমান হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো, পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখা এবং ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধকে অটল রাখার জন্য মন্দ ধারণা থেকে নিজেকে বিরত রাখার পাশাপাশি সত্যতা যাচাই ব্যতীত কারও বিরুদ্ধে অভিযোগকে বিশ্বাস না করা। তাছাড়া সবার সঙ্গে হাসিমুখে, স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন হৃদয়ে কথা বলা এবং দেখা-সাক্ষাৎ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মানুষের প্রতি সুধারণা পোষণ করা এবং অন্যের কাজকর্ম দেখার সময় ভালো ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখা দরকার। কাজ দেখার আগেই যদি মন্দ ধারণা পোষণ করা হয়, তখন ভালো কিছু মন থেকে দূরে সরে যেতে চায়।

বাহ্যিকভাবে যার মধ্যে সততা ও সত্যবাদিতা পরিলক্ষিত হয়, তার সম্পর্কে অন্যায় ধারণা পোষণ করা সঠিক নয়। তবে কারও মধ্যে যদি সুস্পষ্টভাবে অন্যায় ও অসত্য পরিলক্ষিত হয়, তার স্বভাব-

প্রকৃতিও ভালো না হয় এবং সে বিষয়ে সমাজে তার কুখ্যাতিও থাকে, সে ক্ষেত্রে মন্দ ধারণা পোষণ করা অন্যায় হবে না। তবে অযথা কারো সম্পর্কে মন্দ ধারণা করা যাবে না। তাহলে তা আমাদেরকে নানা ধরণের অন্যায় কাজের দিকে ধাবিত করবে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সকল ধরণের থেকে বেঁচে থাকার তরফিক দান করুন। আমিন।