বার্সেলোনা যখন আক্রমণ করছিল, তখন মনে হচ্ছিল শক্তির বিচারেও তারা অনেক এগিয়ে থাকবে। কিন্তু ফুটবল কখনও কখনও তার নিয়ম মেনে চলে না। আক্রমণের ঝড় তোলার পরও শেষ পর্যন্ত লা লিগায় লাস পালমাসের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছে কাতালান ক্লাবটি। শনিবারের এই হারের পর রক্ষণ নিয়ে বেশ চিন্তিত বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিক, যিনি দাবি করেছেন, তাদের আরও উন্নতি করতে হবে রক্ষণ সামলানোর ক্ষেত্রে।
এটা বার্সেলোনার জন্য একটি অপ্রত্যাশিত হারের মুহূর্ত। ১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মতো পালমাসের কাছে ঘরের মাঠে লিগ ম্যাচে হারল তারা। চলতি মৌসুমে এটিই তাদের টানা তৃতীয় লিগ ম্যাচ, যেখানে জয় পেতে ব্যর্থ হয়েছে বার্সেলোনা।
ম্যাচের পরিসংখ্যানেও বার্সেলোনার আধিপত্য স্পষ্ট। তারা ৭০ শতাংশেরও বেশি সময় বলের দখল রেখেছে এবং মোট ২৭টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে ৮টি ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু পালমাস তাদের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পেরেছে এবং ৫টি শটের মধ্যে ৩টি লক্ষ্যে রেখে ম্যাচটি জিতে নেয়।
প্রথমার্ধে আক্রমণের মধ্যে থাকতে হলেও বার্সেলোনা প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে পালমাস তাদের একের পর এক আক্রমণে স্তব্ধ করে দেয়। রাফিনিয়ার চমৎকার গোলে সমতায় ফিরলেও, ফাবিও সিলভার গোলে আবারও পিছিয়ে পড়ে বার্সেলোনা। সেই গোলের পর তাদের আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়নি।
ম্যাচ শেষে হতাশ ফ্লিক জানান, রক্ষণ সামলাতে আরও মনোযোগ দিতে হবে। ‘আমার মনে হয়, যখন আমরা গোল করতে পারি না, তখন দল কিছুটা ভোগে এবং এখানে আমাদের পরিবর্তন দরকার,’ বলেছেন ফ্লিক।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘যদি আমরা গোল না করতে পারি, তবুও হয়তো আমাদের পক্ষে ক্লিন শিট রাখতে হবে। এজন্য দলের সবাইকে রক্ষণে আরও ভালোভাবে মনোযোগ দিতে হবে। শুধু শেষ চারজন বা রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের কাজ নয়, গোটা দলকেই রক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হবে। এখানে আমরা আরও ভালো করতে পারি।’
তবে, বার্সেলোনা এখনো লা লিগায় ১৫ ম্যাচে ১১ জয় ও এক ড্রয়ে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। তাদের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হবে রিয়াল মাদ্রিদ, যারা দুই ম্যাচ কম খেলেও ৩০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।