রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমাবেশে হামলায় ৫৩ বিশিষ্ট নাগরিকের নিন্দা

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন আয়োজিত ‘কৃষক সমাবেশে’ গণবুদ্ধিজীবী ও সংগঠক নাহিদ হাসান নলেজ ও শহীদ আবু সাঈদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রায়হান কবীর, ভূমিহীন আন্দোলনের নেতা শেখ নাছির উদ্দিনের ওপর জামায়াত-শিবির পরিচয়ে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন ৫৩ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

আজ রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এই নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, গত ২৯ নভেম্বর কুড়িগ্রামের রৌমারীতে হাট ও ঘাট খাজনা বাতিল, কৃষি সংস্কার কমিশন ও স্বাধীন স্থানীয় সরকারের দাবিসহ কয়েকটি দাবিতে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের রৌমারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স চত্বরে কৃষক সমাবেশ ছিল। এজন্য তারা কয়েকদিন ধরে ব্যাপক-প্রচারণা চালান। পুলিশের ভাষ্য মতে সমাবেশের দিন রৌমারী থানায় জামায়াতে ইসলামী পার্টি সমাবেশ বাতিলের দাবিতে আবেদন জমা দেন। তাই রৌমারী থানা পুলিশ মঞ্চ নির্মাণে বাঁধা দেয়। পরে সমাবেশ শুরুর নির্ধারিত সময়ে সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশ স্থলে গেলে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনুকে জামায়াত কর্মীরা মাহবুবের নেতৃত্বে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। তারপর শহীদ আবু সাঈদের প্রধান আইনজীবী রায়হান কবীর তাদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলে তাকেও কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে। অতিথি নাহিদ হাসান নলেজ রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকে ও ভূমিহীন আন্দোলনের নেতা শেখ নাসিরসহ উপস্থিত বাকিদের পেটাতে শুরু করে।

বিবৃতিতে তারা দাবি করেন, আমাদের কাছে যে ভিডিও এসেছে ও সংবাদ মাধ্যমে প্রশাসনের লোকজন যে বিবৃতি দিয়েছেন তাতে স্পষ্ট তাদের উসকানিতেই জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এই সাহস পেয়েছে।

তারা আরও বলেন, নাহিদ হাসান নলেজ বাংলাদেশের উত্তর জনপদের একজন গণনায়ক। তিনি দিনাজপুরের ফুলবাড়ি কয়লাখনি আন্দোলন, কুড়িগ্রাম তথা বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল কেন বৈষম্যের শিকার তার প্রধান তাত্ত্বিক ও সংগঠক। তিনি উত্তরাঞ্চল বাঁচাও আন্দোলন, রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির প্রতিষ্ঠাতা। রাষ্ট্রালাপ পাঠচক্র ও পণ্ডিত বইমেলা কুড়িগ্রামে অর্ধযুগ ধরে পরিচালনা করে আসছেন। এতে কুড়িগ্রাম রাজধানীতে তার অবস্থান জানান দিচ্ছে। রাষ্ট্রচিন্তা নামের একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের অন্যতম সদস্য হিসেবে রাষ্ট্র সংস্কারের একজন অন্যতম তত্ত্বকারও। 'সংবিধান ব্রহ্মপুত্র ও বিবিধ প্রসঙ্গ' নামের একটি প্রবন্ধ পুস্তক ও 'বড়আপা, ক্রসফায়ার ও অন্যান্য' নামে তার একটি কবিতার বই আছে।

অ্যাডভোকেট রায়হান কবীর রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির ন্যায়পাল উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি শহীদ আবু সাঈদের মামলার প্রধান কৌঁসুলি। তিনিও রংপুর শহরে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম ও পাঠচক্র পরিচালনা করে আসছেন। এক সংগ্রামী জীবনের অধিকারী। শেখ নাছির উদ্দিন বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক। কৃষক ও ভূমিহীন মানুষের দরদী বন্ধু। এই তিনজনসহ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন বাংলাদেশে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য গত ১০ বছর ধরে কাজ করে আসছে। দিদারুল ভূঁইয়া, প্রীতম দাশসহ অসংখ্য নেতাকর্মী আওয়ামী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমরা রৌমারীর সার্কেল এসপি, ওসি ও ইউএনওর বিবৃতি পড়ে বুঝেছি, এরাও অন্যতম অপরাধী। অপসারণসহ হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি ও নিন্দা জানাই।

বিবৃতিদাতারা হলেন

আনু মুহাম্মদ-অর্থনীতিবিদ ও গণবুদ্ধিজীবী, সলিমুল্লাহ খান-লেখক ও বুদ্ধিজীবী, মোরশেদ শফিউল হাসান-কবি ও প্রাবন্ধিক, মাসকাওয়াথ আহসান-কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক, সামিনা লুৎফা-শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী, কল্লোল মোস্তফা-লেখক ও এক্টিভিস্ট, বাকী বিল্লাহ-লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী, পারভেজ আলম-লেখক, গবেষক ও এক্টিভিস্ট, দিলশানা পারুল-অ্যাক্টিভিস্ট, মারুফ মল্লিক-রাজনৈতিক বিশ্লেষক, আলতাফ শাহনেওয়াজ- কবি ও সাংবাদিক, আরিফুজ্জামান তুহিন-কবি ও সাংবাদিক, দীপক সুমন-অভিনেতা, নির্দেশক, খন্দকার সুমন-চলচ্চিত্রকার, মীর হুযাইফা আল মামদূহ-লেখক ও গবেষক, সুস্মিতা চক্রবর্তী-অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, অনুপম দেবাশীষ রায়-পিএইচডি গবেষক, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, নাসরিন খন্দকার- নৃবিজ্ঞানী ও গবেষক, রফিকুল রঞ্জু-সাংবাদিক, সাইয়েদ জামিল- কবি ও ট্রাস্টি, শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট, মিছিল খন্দকার-কবি ও সাংবাদিক, শিমুল সালাহ্উদ্দিন-কবি ও সাংবাদিক, সালাহ উদ্দিন শুভ্র-কথাসাহিত্যিক, এহসান মাহমুদ-সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক, তাজওয়ার মাহমিদ-সাংবাদিক, সিজান আহমেদ জিম-যোগাযোগ কর্মী,  রাতুল আল আহমেদ-নৃবিজ্ঞানী, আহমেদ ইসহাক- কবি, ছড়াকার, কেন্দ্রীয় সভাপতি রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলন, পলিয়ার ওয়াহিদ-কবি, তুহিন ওয়াদুদ-অধ্যাপক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ-সদস্য সচিব রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি, আফজাল হোসেন-এক্টিভিস্ট, রিয়াজ খান-সদস্য রাষ্ট্রচিন্তা, আকরাম খান-চলচ্চিত্র নির্মাতা, বীথি ঘোষ-শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন-রাজনৈতিক কর্মী, জামসেদ আনোয়ার তপন-সংস্কৃতিকর্মী, সীমা দত্ত-সভাপতি, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র, রহমান মুফিজ-কবি ও সাংবাদিক, মাহতাব উদ্দীন আহমেদ-গবেষক ও এক্টিভিস্ট, ফেরদৌস আরা রুমী-কবি, অংকন চাকমা-সভাপতি, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, রাগীব নাঈম-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সৈকত আরিফ-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, ছায়েদুল হক নিশান-সভাপতি, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, রাফিকুজ্জামান ফরিদ-সাধারণ সম্পাদক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, আরিফ রহমান-লেখক ও সাংবাদিক, ধ্রুব সাদিক-লেখক-সাংবাদিক, অর্বাক আদিত্য- কবি, এনাম রাজু- কবি, সাম্য শাহ-সভাপতি, নাগরিক যুব ঐক্য, আবুল কালাম আল আজাদ- লেখক ও প্রাণ-প্রকৃতিকর্মী, দেলোয়ার জাহান-গণবুদ্ধিজীবী।