প্রেস সচিব

আ. লীগের লুটপাটের চিত্র পাঠ্যবইয়ে আসা উচিত মনে করেন ড. ইউনূস

বাংলাদেশের আর্থিক খাতের লুটপাটের চিত্র ভয়াবহ। অনেকেই এর বৈধতা দিতে চেয়েছেন। লুটপাটের এই চিত্র পাঠ্যবইয়ে আসা উচিত যেন নতুন এবং পরবর্তী প্রজন্ম জানতে পারে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদেরও সচেতন করা উচিত বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ রবিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সামনে এমন তথ্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশে মহাচুরির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে অর্থনৈতিক অনিয়মের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে। উন্নয়নের বয়ানের পোস্টমর্টেম করা হয়েছে অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র। যে চিত্র বেরিয়ে এসেছে তা ভয়াবহ। চোখের সামনে বিশাল লুটপাট হয়েছে। অধ্যাপক ইউনূস সব শুনে বলেছেন, আমরা আতঙ্কিত। এই লুটপাটের চিত্র পাঠ্যবইয়ে আসা উচিত।

শফিকুল আলম আরও বলেন, যে লুটপাট হয়েছে তা শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার মতো। এই মহাচুরির বিচার অবশ্যই হবে। পাশাপাশি পাচার হওয়া টাকা ফেরানোর বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সর্বোচ্চভাবে টাকা ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাব। পাচার হওয়া অর্থ বিদেশ থেকে ফেরত আনার জন্য এফবিআইসহ বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করছে সরকার। টাকা চুরি করে কোথায় নিয়ে গেছে সেটা বের করা এবং টাকা দেশে ফেরানোই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সদস্যদের বক্তব্য যদিও শ্বেতপত্রে উল্লেখ নেই, তবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩০ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা সরকারের। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এমন তথ্য জানিয়েছেন।

প্রেস সচিব বলেন, গত ১৫ বছরে যা হয়েছে তার বিচার করা এই অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কর্ণফুলী টানেল তৈরি করা হয়েছে, কিন্তু এর ভ্যালুটা কী? আমরা এর খরচটাই তুলতে পারছি না। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী নিজের নির্বাচনী এলাকায় যাওয়ার জন্য কর্ণফুলী নদীতে টানেল করেছেন। এটা এখন কেউ ব্যবহার করছে না। এভাবে রাষ্ট্রের টাকার অপচয় করেছেন তারা।

তিনি বলেন, ক্ষমতা হারানোর কিছুদিন আগেও শেখ হাসিনা সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়েছিল। মূলত এস আলমকে টাকা পাচারের সুযোগ করে দিতেই এই টাকা ছাপানো হয়।

শফিকুল আলম বলেন, পতিত সরকার যদি না বলত যে তার পিয়নও ৪০০ কোটি টাকার মালিক তাহলে তো আমরা জানতে পারতাম না। লুটপাট এবং অর্থ পাচারের একটা স্পষ্ট চিত্র থাকবে শ্বেতপত্রে।

নতুন করে ২২ হাজার কোটি টাকা ছাপানোর পরও মূল্যস্ফীতিতে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব। তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই টাকা ছাপানো হয়েছে। তাছাড়া যে সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা ছাপা হয়েছে তা চৌবাচ্চার পানির মতো। তাছাড়া এই টাকা তো পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো এস আলমকে সহায়তার জন্য ছাপানো হয়নি। সাময়িক সময়ের জন্য ব্যাংকগুলোকে সহায়তার জন্য এটা করা হয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতিতে এর সামান্যতম প্রভাবও পড়বে না।

নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক দাম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাণিজ্য উপদেষ্টা এবং সরকারের সংশ্লিষ্টরা সিরিজ (একের পর এক) মিটিং করে যাচ্ছেন। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, আমদানি শুল্ক কমানোসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে।