মেদ ঝরবে যেভাবে

শরীরের মেদ কমাতে হলে শরীর ডিটক্স করার কথা বলেন চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা। পরিবেশ, খাবার থেকে প্রতিদিনই কিছু বিষাক্ত পদার্থ আমাদের শরীরে পৌঁছায়। সুস্থ থাকার জন্য এসব টক্সিন শরীর থেকে দূর করা প্রয়োজন। শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠতে যতই আলস্য লাগুক না কেন, যদি সকাল সকাল উঠে ৫টি কাজ করে ফেলতে পারেন, তাহলেই সারা দিন শরীর তরতাজা থাকবে।

নারকেল তেলে কুলকুচি

মুখের দুর্গন্ধ কমাতে ও সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে মুখভর্তি নারকেল তেল নিয়ে যদি ১০-১৫ মিনিট কুলকুচি করা যায়, তাহলে মুখে জমে থাকা নানা রকম ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যায়। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘অয়েল পুলিং’। এতে দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো থাকে। নারকেল তেল লালায় জমে থাকা স্ট্রেপটোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া নাশ করে।

গরম পানিতে গোসল

হালকা গরম পানিতে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল তেল, যেমন ইউক্যালিপটাস বা ল্যাভেন্ডার তেল ফেলে গোসল করতে পারেন। এতে সাইনাসের সমস্যা যেমন দূর হবে, তেমনই ত্বকের স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে। শীতে ত্বকে নানা রকম অ্যালার্জি সমস্যা দেখা দেয়। এর থেকে রেহাই পেতে হলে প্রতিদিন গোসল করতে হবে।

আদা-লেবুর পানি

শরীর ডিটক্স করতে হলে কয়েক রকম ডিটক্স পানীয় খেতেই হবে। বিশেষ করে সকাল সকাল যদি এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে আদা ও লেবুর রস দিয়ে খেতে পারেন, তা হলে শরীর তরতাজা থাকবে সারা দিন। আদা- লেবুর রসে এক চামচ মধু মিশিয়ে নিলে আরও ভালো। এতে মেদও ঝরবে দ্রুত, শরীরের পিএইচের ভারসাম্য বজায় থাকবে।

শ্বাস নিন ও ছাড়ুন

শ্বাস-প্রশ্বাসের কিছু ব্যায়াম আছে, যা রোজ করলে ভালো। যার মধ্যে প্রথম করা উচিত অনুলোম-বিলোম। প্রথমে ডান দিকের নাকের ছিদ্র চেপে ধরে, বাঁ দিক দিয়ে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার কাজ করতে হবে। পরে বাঁ দিকের নাকের ছিদ্র চেপে ধরে, ডান দিক দিয়ে শ্বাস গ্রহণ ও বর্জনের অভ্যাস করতে হবে। নিয়মিত করলে ফুসফুসের জোর বাড়বে, সর্দি-কাশি, ঘন ঘন হাঁচির সমস্যা দূর হবে।

হাঁটাহাঁটি ও যোগাসন

সকালে হাঁটার অভ্যাস করলে যেমন মেদ ঝরবে দ্রুত, তেমনই শরীরও সুস্থ থাকবে। হজমশক্তি আরও বাড়বে। প্রতি দিন নিয়ম করে সকালে হাঁটার অভ্যাস করতে হবে। যদি বাইরে বেরিয়ে হাঁটতে সমস্যা হয়, তাহলে ছাদে বা বাড়ির মধ্যেই হাঁটুন। তা ছাড়া রোজ অন্তত ১৫-২০ মিনিট যে কোনো রকম ব্যায়াম বা যোগাসন অভ্যাস করলে ভালো।