তারুণ্যের উৎসবে ডানা ৩৬

শান্তি ও মুক্তির প্রতীক পায়রা। মুক্ত আকাশে ডানা মেলে উড়ে চলার আনন্দে মিশে আছে শৃঙ্খলিত দিনগুলোর যন্ত্রণাও। যে শেকল ভাঙতে জুলাই বিপ্লবে প্রাণ দিয়েছেন হাজারো মানুষ, অবসান হয়েছে ফ্যাসিবাদী অপশাসনের। তারুণ্যের এই উৎসব শুরু হবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ১১তম আসর দিয়ে, শেষ হবে সাফ অনূর্ধ-১৯ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে। থাকবে কনসার্ট, গ্রাফিতি-সহ অনেক আয়োজন। তারুণ্যের উৎসব ২০২৫-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসেছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের প্রথম দিনে। ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিপিএল ২০২৫ এর মাসকট ডানা ৩৬-এর উন্মোচনের মাধ্যমে ডানা মেলল তারুণ্যের এই উৎসব আয়োজন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ডানা ৩৬’ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল মাসকট। যার গড়ন, ব্যবহৃত রঙ ও অঙ্গভঙ্গি উপস্থাপন করে স্বাধীনতা, শান্তি, মুক্তি, তারুণ্য, প্রাণবন্ততা, উৎসব এবং সীমাহীন সম্ভাবনাকে। এখানে ‘ডানা’ শব্দটি ‘পাখা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক। ‘ডানা ৩৬’ মাসকটটি ডানা বা পাখা প্রসারিত করা একটি ‘সাদা পায়রা’, যা শান্তির প্রতীক এবং প্রতি পাশে ১৮টি করে মোট ৩৬টি রঙিন পালক উপস্থাপন করে ৩৬ জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অবিস্মরণীয় স্মৃতিকে, যা প্রতিটি স্বপ্নবাজ, উদ্যমী, অপ্রতিরোধ্য তরুণকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। ডানা’র স্বপ্নময় চোখ ও উজ্জ্বল হাসিতে ছড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের আনন্দ এবং ক্রিকেট মাঠের অফুরন্ত সম্ভাবনা। এই মাসকটের নকশা করেছে বিজ্ঞাপনী সংস্থা ‘লাই টু আই’।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে মাসকট উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, জাহানারা আলম, সালমা খাতুন ও নিগার সুলতানা জ্যোতি। এছাড়াও ক্রীড়াঙ্গনের অন্যান্য অঙ্গনের তারকারা যেমন বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক তপু বর্মণ, টেবিল টেনিস তারকা জোবেরা রহমান লিনু, ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তারসহ অনেকেই। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়ালও, বিগত সময়ে বিসিবি প্রধান এবং বাফুফে সভাপতির সম্পর্কের সমীকরণ মনে করলে বলা যায় এক অসাধ্যই সাধন হয়েছে !

অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবে নিহতদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়, প্রদর্শন করা হয় জুলাই বিপ্লব নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘জুলাই অনির্বাণ’। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন বিপিএলের এবারের আয়োজনকে বিগত আসরগুলোর চেয়ে ভিন্নতর করার কথা, ‘এবার আমরা দর্শকদের অন্যরকম অভিজ্ঞতা উপহার দিতে চাই। মাঠে দর্শকদের জন্য বিনামূল্যে পানি বিতরণের জন্য থাকবে শহীদ মুগ্ধ পানি কিয়স্ক। সেখানে থাকা কিউআর কোডের মাধ্যমে দর্শকরা জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে অনুদান দিতে পারবেন। এছাড়াও সম্পূর্ণ ডিজিটাল টিকেটিং, জিরো ওয়েস্ট জোন-সহ অনেক নতুন উদ্যোগ। বিশেষ অতিথি হয়ে আসা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ জানিয়েছেন তারুণ্যের শক্তিকে উন্নয়নে কাজে লাগানো এবং সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করার কথা। প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘খেলাধুলা আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে। বিশেষ করে ক্রিকেট সবসময়ই আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে। ভিন্ন ক্ষেত্রে যত মতবিরোধই থাকুক, খেলার ক্ষেত্রে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাই। জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে দেশ পুনর্গঠন ও রাষ্ট্র সংস্কারে এগিয়ে যাওয়াই এই তারুণ্যের উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য।’

প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ  ইউনূস বিপিএলের জন্য থিম হিসেবে বলেছিলেন, ‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’; এই শব্দগুচ্ছ। এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে থিম সং। উৎসব আয়োজনের মূল সুরও তাই। খেলায় গানে হবে তারুণ্যের উদযাপন, যারা তৈরি করবে নতুন বাংলাদেশ।