‘হিজাব’ শব্দের অর্থ ঢেকে রাখা বা গোপন রাখা। এর মাধ্যমে পুরো শরীর আবৃত করার বিষয়টি বোঝানো হয়। ‘নেকাব’ নারীর মুখ আবৃত করার জন্য ব্যবহৃত একটি পোশাক। ইসলামি বিধান অনুযায়ী নারীদের চেহারা ও শরীর গায়রে মাহরাম (যাদের সঙ্গে বিয়ে বৈধ) পুরুষের সামনে ঢেকে রাখা ফরজ। কোরআনে নারীদের সৌন্দর্য পরপুরুষের সামনে প্রকাশ করতে নিষেধ করা হয়েছে। সুরা আহজাবের ৫৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, বাইরে বের হলে ‘জিলবাব’ বা বিশেষ ধরনের লম্বা চাদর দ্বারা চেহারা ও শরীর ঢেকে বের হবে। এই চাদরের আকার-আকৃতি সম্পর্কে ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘এই চাদর ওড়নার ওপরে পরিধান করা হয়।’ ইমাম মুহাম্মদ ইবন সিরিন বলেন, ‘আমি আবিদা আসসালমানিকে এই আয়াতের উদ্দেশ্য ও জিলবাবের আকার-আকৃতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি মস্তকের ওপর দিক থেকে চাদর মুখমণ্ডলের ওপর লটকিয়ে মুখমণ্ডল ঢেকে ফেললেন এবং কেবল বাম চোখ খোলা রেখে এর পদ্ধতি দেখিয়ে দিলেন। সুতরাং জিলবাব দ্বারা চেহারা, মাথা ও বুক ঢেকে রাখা যায় এমন চাদর উদ্দেশ্য।’
ইহরাম অবস্থায় সর্বাদা নেকাব পরতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, নারীরা তাদের চেহারা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখবেন। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন যে, ‘ইহরামের সময় পথচারী পুরুষরা কাছাকাছি এলে তারা নিজেদের চেহারা অন্য কোনো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতেন।’ এই হাদিসে ইহরাম অবস্থাতেও পর্দার নিয়ম বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
নেকাব সম্পর্কে যারা ফরজ না বলে দাবি করেন, তারা সাধারণত যুক্তি দেন যে, ইহরামের সময় নেকাব নিষিদ্ধ হওয়ায় এটি ফরজ নয়। তবে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ পরিস্থিতিতে ফরজ বিধানেও পরিবর্তন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ : ঋতুস্রাবকালে নারীদের জন্য নামাজ ও রোজা পালন নিষিদ্ধ, যদিও এগুলো সাধারণ অবস্থায় ফরজ।
নেকাবের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলেমরা একমত পোষণ করেছেন। নেকাব এমন একটি পোশাক, যা নারীর চেহারা ঢেকে রাখে এবং তাকে অনাকাক্সিক্ষত দৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করে। এটি ইসলামি সমাজে নারীর মর্যাদা রক্ষা করে। বর্তমান সময়ে নেকাব নিয়ে বিভিন্ন দেশে আইনি ও সামাজিক বিতর্ক চলছে। কিছু দেশে এটি বাধ্যতামূলক, আবার কিছু দেশে নিষিদ্ধ। তবে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি নারীর ব্যক্তিগত অধিকার এবং তার ধর্মীয় চেতনার অংশ। ইসলামে নেকাব একটি পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত। তবে এটি পালনে আন্তরিকতা ও শরিয়তের সঠিক অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।