ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে ভাঙচুর ও জাতীয় পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। পাশাপাশি এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে দলগুলো। এ ছাড়া হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখা। জেনেভা কনভেনশনের খেলাপ: আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনা জেনেভা কনভেনশনের বরখেলাপ বলে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সহকারী হাইকমিশনের ভেতরে ঢুকে বাংলাদেশের পতাকা নামিয়ে তাতে আগুন দেওয়া এবং ভাঙচুর করা ভিয়েনা কনভেনশনের সুস্পষ্ট বরখেলাপ। গতকাল মঙ্গলবার দলের সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি’ নামের সংগঠনের সদস্যরা সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে যে আক্রমণ করেছে তা পূর্বপরিকল্পিত বলে ধারণা হয়।
তিনি বলেন, ‘ভারত সরকার ও সে দেশের জনগণের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, আপনাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কৌশল হিসেবে বাংলাদেশে ঘৃণার ব্যবহার উভয় দেশের সম্পর্কে দীর্ঘস্থায়ী টানাপড়েন সৃষ্টি করবে। আমরা আশা করব, নতুন বাংলাদেশের নাগরিকদের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষার প্রতি ভারতীয়রা শ্রদ্ধাশীল হবেন।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ শাসনকালে যেসব নেতা ভারতে অবস্থান করছেন তাদের ফিরিয়ে দিয়ে বিচারে সহায়তা করবেন। এটা আমরা আশা করি।’
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশে নিজেদের মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভারত অযাচিত উদ্বেগ ও উগ্রতা প্রকাশ করছে, যা সীমা অতিক্রম করেছে। ভারতের ভূমিকা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর অসংখ্য নির্মমতার ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। সেসব নিয়ে দেশটির কোনো সংকোচ বা অনুশোচনা নেই।’
বিক্ষোভ মিছিলটি নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে ফের নয়াপল্টনের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
রিজভী আরও বলেন, ‘ভারতে মুসলিম-খ্রিস্টান নিম্নবর্ণের দলিত হিন্দু শিখসহ সংখ্যালঘুদের কোনো নিরাপত্তা নেই। তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অস্থির।’
এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আব্দুল সালাম আজাদ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মীর সরাফত আলী সপু, তানভির আহমেদ রবিন, আব্দুল মোনায়েম মুন্না, নুরুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মো. শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছেন, বেশ কিছুদিন ধরে ভারতের কোনো কোনো প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ সম্পর্কে অতিরঞ্জিত ও অসত্য তথ্য প্রচারে লিপ্ত রয়েছে। সম্প্রতি ভারতের শাসকদলের ও পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সম্পর্কে এবং বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী পাঠানোর হাস্যকর আবদার দুই দেশের জনগণের ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন দূর করার বিপরীতে নতুন ধরনের উসকানির মধ্যে ফেলছে। একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তা মোটেই প্রত্যাশা করে না।
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) বিজয়নগর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে। মিছিল-পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলটির নেতারা বলেছেন, বিগত ১৫ বছর একটি তাঁবেদার সরকার বসিয়ে ভারত সরকার বাংলাদেশকে একটি করদরাজ্যে পরিণত করার প্রয়াস চালিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ কখনো কারও দাসত্ব মেনে নেয়নি। জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশে যখন ভারতের করদরাজ্য ভেঙে পড়েছে তখন তাদের মাথা নষ্ট হয়েছে। এখন তারা আমাদের হাইকমিশনগুলোতে আক্রমণ করছে। বাংলাদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে এই ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দাঁড়াবে।
এদিকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দীন রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে দলটির প্রেসিডেন্ট কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে ভাঙচুরের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বাংলাদেশ যদি ত্রিপুরা থেকে আনারস ও কাঁঠাল কেনা বন্ধ করে তাহলে তারা না খেয়ে মারা যাবে। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন দেশ। তারা অন্য দেশকে সম্মান করতে জানে। আমাদের মনুষত্ব এখনো বিলুপ্ত হয়নি।’
এ ছাড়া দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি মানববন্ধন করেছে। এ সময় বক্তারা বলেছেন, আগরতলার এ ঘটনা ১৯৬১ সালে ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে। যেহেতু কূটনৈতিক মিশনগুলোকে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব, এ ক্ষেত্রে ভারত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তাই ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ, কূটনীতিক, অকূটনৈতিক সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশের জনগণ কারও দাদাগিরি পছন্দ করে না : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভারত নিজের দেশে তার প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা দিতে যেখানে ব্যর্থ, সেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দেশ বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলার কোনো অধিকার তাদের থাকতে পারে না। বাংলাদেশের জনগণ তাদের মাথার ওপর কারও দাদাগিরি একদম পছন্দ করে না। আমরা বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণকে চোখ-কান খোলা রেখে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্যই বিদেশি যেকোনো আগ্রাসন রুখে দিতে পারে।
এ ঘটনা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিনষ্ট করার এক গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের অংশ বলে মনে করে দলটি। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক মিশন, কূটনীতিক ও অ-কূটনীতিক কর্মীদের নিরাপত্তা বিধান করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় জামায়াত।
সিপিবি-বাসদের নিন্দা : নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। দল দুটির শীর্ষ নেতারা সাম্প্রদায়িক উসকানির ফাঁদে পা না দেওয়া এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানায়। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো আলাদা আলাদা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মো. শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বিবৃতিতে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে ভারতের কোনো কোনো প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ সম্পর্কে অতিরঞ্জিত ও অসত্য তথ্য প্রচারে লিপ্ত রয়েছে। সম্প্রতি ভারতের শাসক দলের ও পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সম্পর্কে এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী পাঠানোর হাস্যকর আবদার দুই দেশের জনগণের ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন দূর করার বিপরীতে নতুন ধরনের উসকানির মধ্যে ফেলছে। একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তা মোটেই প্রত্যাশা করে না।
বিবৃতিতে নেতৃারা বলেন, রক্তক্ষয়ী স্বতঃস্ফূর্ত গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ভারতের এক শ্রেণির ধর্মীয় উগ্রবাদী মহল বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণের প্রতি বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিষয়ে প্রকৃত তথ্যের বদলে অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য নানা ধরনের সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ক্ষেত্র তৈরি করছে। অপপ্রচারণা চালিয়ে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, যেকোনো দেশে বিদেশি দূতাবাসের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব সে দেশের রাষ্ট্র ও সরকারের। অথচ ভারত সরকার বাংলাদেশ দূতাবাসের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। উপরন্তু ভারত সরকারের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি, শাসক দল বিজেপি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উসকানিমূলক বক্তব্য এ ধরনের অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করছে, যা কূটনৈতিক শিষ্টাচারবর্জিত। তিনি বলেন, এ সমস্ত ঘটনায় দুই দেশের প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে পুষ্টি জোগালেও ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপদে ফেলছে দুই দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও নিরীহ জনগণকে।
নাগরিক কমিটির বিক্ষোভ : আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। গতকাল বিকেলে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভারত সরকার বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। তারা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা সহ্য করতে পারে না। এরই ধারাবাহিকতায় আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, ভারত সরকার বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। তারা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা সহ্য করতে পারে না। এরই ধারাবাহিকতায় আজকে আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা হয়েছে। ভারতের অধিকাংশ গণমাধ্যম বাংলাদেশ সম্পর্কে অপপ্রচার চালাচ্ছে অভিযোগ করে বক্তারা প্রতিটি সীমান্ত-হত্যার বিচার এবং ভারতের সঙ্গে করা দুই দেশের অসম চুক্তিগুলো বাতিলের দাবি জানান।
জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য অনিক রয় বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এ দেশে দিল্লির দাবার ঘুঁটি ছিল। ভারত সব সময় তাদের আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। ভারতের মানুষের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। আমাদের বিরোধ দিল্লির শাসনের সঙ্গে। এই নতুন বাংলাদেশে দিল্লির আধিপত্য বিস্তার হতে দেব না। দিল্লির সঙ্গে ঢাকার হওয়া সব অসম চুক্তি মানুষের সামনে উন্মোচন করে বাতিল করতে হবে।’
এর আগে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে জাদুঘরের সামনে জাতীয় নাগরিক কমিটির বিক্ষোভ সমাবেশে ঢাকার বিভিন্ন থানা কমিটি মিছিল নিয়ে যোগ দেয়। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে থেকে বিভিন্ন কমিটির সদস্যরা যোগ দেন। জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে তারা একটি মিছিল নিয়ে জাতীয় শহীদ মিনারে গিয়ে কর্মসূচি শেষ করে।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা : আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে হামলা ও জাতীয় পতাকার অবমাননার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। ঐক্য পরিষদ বলেছে, এ ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত, দুর্ভাগ্যজনক ও নিন্দনীয়। গতকাল ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বিশে^র প্রতিটি দেশের জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন যেকোনো দেশের নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। এর কোনো ধরনের অবমাননা সে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করার শামিল। কোনো দেশের পতাকা নিয়ে এহেন কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকা যেকোনো দেশের নাগরিকের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বার্থে অত্যাবশ্যক।
১৭৬ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রতিবাদ : গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে অবসরপ্রাপ্ত ১৭৬ জন কর্মকর্তা বলেছেন, গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে আমরা লক্ষ করছি যে, স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে কিছু ভারতীয় গণমাধ্যম এবং ভারতীয় উগ্রপন্থি কিছু রাজনৈতিক মহল ক্রমাগতভাবে বাংলাদেশবিরোধী মিথ্যা প্রচারণায় লিপ্ত রয়েছে। এরই মধ্যে কিছু উগ্রপন্থি উশৃঙ্খল দুর্বৃত্ত প্রথমে কলকাতার বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনারের অফিসের সামনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় অগ্নিসংযোগ করে এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকা দাহ করে। আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক বিনষ্টকারী এমন একটি ন্যক্কারজনক অপতৎপরতার শেষ হতে না হতেই ভারতের একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের কার্যালয়ে হামলা চালায় এবং অফিস ভাঙচুর করে। ভিয়েনা কনভেশন অনুযায়ী যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
জাবিতে মশাল মিছিল : আগরতলায় বাংলাদেশি দূতাবাসে হামলা ও জাতীয় পতাকা অবমাননার প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা। গতকাল সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে মশাল মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক ঘুরে বটতলা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক কনোজ কান্তি রায়।
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার একাংশের সংগঠক সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘ভারত বারবার বলতে চেয়েছে তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছিল যার ফলে নাকি আমরা স্বাধীন হতে পেরেছি। এই স্বীকৃতি নিয়ে তারা আমাদের দেশ থেকে যত ধরনের সুবিধা নেওয়া যায় সবকিছু নিয়েছে। দুঃখের বিষয় এই যে, ফ্যাসিস্ট শাসকের সময় ভারত আমাদের দেশ থেকে যেসব সুবিধা পেত গণঅভ্যুত্থানের পরে গঠিত সরকার এ সুবিধা দিতে একবারের জন্যও না করেনি। আমাদের দেশের মানুষ এখনো পানির ন্যায্য হিস্যা পায় না, সেই পানি ভোগ করে ভারত। আমাদের দেশের নদীর যে স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি, তা কোনোভাবেই বজায় থাকেনি এ ভারতীয় আগ্রাসনের কারণে। জনগণের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে সরকার এসেছে এখন পর্যন্ত তারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলেনি। গতকালকে বাংলাদেশের দূতাবাসে যে হামলা হয়েছে তার কোনো সুরাহা এখন পর্যন্ত হয়নি। ভারত যত বড় সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র হোক না কেন, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনচেতা জনগণকে শাসন করতে পারবে না।’