জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে আনতে চান গভর্নর

মূল্যস্ফীতি আগামী জুন মাসের মধ্যে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি পরবর্তী অর্থবছরের মাঝে তা ৫ শতাংশে নামবে। আমাদের মূল লক্ষ্য ৪-৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, আশা করি তা সম্ভব।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটরিয়ামে ‘টিপিং পয়েন্টস অব রিফর্ম এজেন্ডা ফর দ্যা টার্নঅ্যারাউন্ড অব দ্যা ব্যাংকিং সেক্টর অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন তিনি।

আর্থিক খাতের চার স্তম্ভ অনেক দুর্বল জানিয়ে আহসান এইচ মনসুর বলেন, গত ১০-১২ বছর ধরেই অর্থনৈতিক খাত পিছিয়ে ছিল। অর্থনীতির ৪টি স্তম্ভ ব্যাংকিং, স্টক মার্কেট, ইন্স্যুরেন্স, বন্ড মার্কেট কোনোটাই আমাদের দেশে শক্তিশালী নয়। বন্ড মার্কেট আমরা গড়েই তুলতে পারিনি।

বীমা ও পুঁজিবাজারের দুর্বল অবস্থায় হতাশা গভর্নর। তিনি বলেন, ইন্স্যুরেন্স আর পুঁজিবাজারের অবস্থা করুণ। ফলে একমাত্র ব্যাংকিং খাতকেই আমাদের দেশে বড় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী উৎস বের করতে না পারলে আমাদের ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরশীলতা থাকবেই।

মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারলে সুদের হার কমিয়ে আনা হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বন্যার কারণে বর্তমান বাজারে সবজি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তি। এক সময় তা কমে আসবে। মুদ্রাস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারলে আমরা ব্যাংকের সুদ ও নীতি সুদহার কমিয়ে আনব।

বাংলাদেশে নগদ টাকার সংকট রয়েছে। এজন্য ব্যাংকগুলোকে ইতোমধ্যে টাকা ছাপিয়েও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ সংকট। সব পাচার হয়ে গেছে বলে মনে করেন গভর্নর। তিনি বলেন, দেশে টাকা নাই। ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছিল রিজার্ভ; যা এখন হয়েছে ২৪ বিলিয়ন। অর্থাৎ বাকি টাকাটা বাইরে চলে গেছে। আমরা যদি আমানত বাড়াতে না পারি, টাকা বাইরে চলে যায়, তাহলে ব্যাংক ও অর্থনৈতিক খাতের প্রবৃদ্ধি হবে না। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করার জন্য টাকা পাচার বন্ধ করতে হবে।

এদিকে ব্যাংকিং খাতের দুর্দশার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দায়ী করেন ব্যাংকাররা। তারা বলছেন, এই খাতে রাজনৈতিক প্রভাব ও নানা অনিয়মের কারণে গত দেড় দশকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নামে বেনামে ঋণ ও পাচারের কারণে সামগ্রিকভাবে ক্ষতির মুখে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা।

ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, বিভিন্ন রকম তদবিরের জ্বালায় ব্যাংকিং সেক্টর পাগল হয়ে যায়। চাকরি দিতে হবে তাদের আত্মীয় স্বজনকে। তাদের প্রোমোশন দিতে হবে। ট্রান্সফার করতে হবে। এটা একেবারে তলা থেকে ওপর পর্যন্ত। তদবিরের পর তদবির আসে।

ডাচ বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরীন বলেন, ভালো ব্যাংকগুলোও এখন আস্থা অর্জন করতে পারছে না। মানুষ টাকা রাখছে বালিশের নিচে। ভালো কাস্টমার, যাদের সামর্থ্য আছে তারা বিদেশি ব্যাংকগুলোতে টাকা রাখছেন। দেশি ব্যাংকগুলোতে তারা টাকা রাখতেই চাচ্ছেন না।

আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্বব্যাংকের বহুপাক্ষিক বিনিয়োগ গ্যারান্টি সংস্থার (মিগা) ড. জুনায়েদ কামাল আহমদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের চার ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদ, মো. জাকির হোসেন চৌধুরী, মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ।