চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ‘হাজারিখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য’কে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ‘না’ করে দিয়েছে। বন বিভাগের সম্মতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিকল্পনা ও উপজেলা প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে উপজেলা পরিষদ গত ১ ডিসেম্বর এই প্রকল্প অনুমোদন করে। ডিসেম্বর মাস থেকেই কাজ শুরু করার কথা থাকলেও তা আর সম্ভব হচ্ছে না।
জানা গেছে, হাজারিখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত ফটিকছড়ির একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল এটিকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১ হাজার ১৭৭ দশমিক ৫৩ হেক্টর জমি নিয়ে এই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যটি গঠিত। চট্টগ্রাম শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে রামগড়-সীতাকুণ্ড বনাঞ্চল।
এ বনাঞ্চলের মধ্যেই রয়েছে বিচিত্র সব বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হাজারিখিল। যেখানে আছে ১২৩ প্রজাতির পাখি। রঙ-বেরঙের এসব পাখির মধ্যে রয়েছে বিপন্ন প্রায় কাঠময়ূর ও মথুরা। আছে কাউ ধনেশ ও হুতুম পেঁচাও। বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের সমারোহ থাকার কারণে চিরসবুজ এই বনে এমন কিছু প্রজাতির পাখি পাওয়া গেছে, যা অন্য কোনো বনে সচরাচর দেখা যায় না। এর মধ্যে রয়েছে হুদহুদ, চোখ গেল, নীলকান্ত, বেঘবৌ, আবাবিল। এসব পাখির আকার-আকৃতি, বর্ণ ও স্বভাবে বৈচিত্র্যময়। সম্প্রতি বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এক গবেষণায় পাখির এসব প্রজাতির সন্ধান পায় গবেষক দল।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, মন্ত্রণালয় ‘না’ করাতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।