লক্ষ্মীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রকাশ্যে গুলি চালানোর অভিযোগে যুবলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন সোহাগকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) ভোররাতে সদর থানা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত গিয়াস উদ্দিন সোহাগ জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও লাহারকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সদর উপজেলার পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার মো. রুহুল আমিনের ছেলে।
নিহতের স্বজন ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর শহরের তমিজ মার্কেট এলাকার সামনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। পাল্টা প্রতিরোধে চেষ্টা করে নিরস্ত্র শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগ উঠেছে, এ সময় জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের অপসারণকৃত চেয়ারম্যান একেএম সালাউদ্দিন টিপুর নেতৃত্বে গুলি ছোড়েন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। টিপুর নিজ বাসভবনের ছাদ থেকে প্রকাশ্যেই সালাউদ্দিন টিপু ও তার সহযোগী গিয়াস উদ্দিন সোহাগসহ অন্যরা শিক্ষার্থীদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন।
এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাদ আল আফনান, ওসমান গনি ও সাব্বির হোসেনসহ চার শিক্ষার্থী নিহত হন। এ সময় তিন শতাধিক ছাত্র-জনতা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এ ঘটনায় হত্যাসহ চারটি মামলা দায়ের করা হয়। আর এসব মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতা-কর্মীদের আসামি করা হয়। এদের অধিকাংশই পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মোন্নাফ জানান, ৪ আগস্ট সাবেক যুবলীগের সভাপতি সালাউদ্দিন টিপুর বাসভবনের ছাঁদ থেকে টিপুর নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার ওপর প্রকাশ্যে গুলিব চালান গিয়াস উদ্দিন সোহাগ। ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, গুলি ও নিহতদের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার গিয়াস উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।