ভাষাসংগ্রামী, আইনজীবী ও রাজনীতিক আতাউর রহমান খান ঢাকার ধামরাইয়ের বালিয়া গ্রামে ১৯০৭ সালের ১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩০ সালে অর্থনীতিতে বিএ (অনার্স) পাস করেন এবং ১৯৩৬ সালে বিএল ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৩৭ সালে ঢাকা জেলা কোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন। প্রজা সমিতিতে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে আতাউর রহমান খানের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ১৯৪৪ সালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন। আতাউর রহমান খান ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত দলটির সহসভাপতি ছিলেন। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের সদস্য হিসেবে ভাষা আন্দোলন সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আতাউর রহমান খান যুক্তফ্রন্ট প্রার্থী হিসেবে পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ১৯৫৮ সালে দেশে সামরিক শাসন জারির পূর্ব পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আতাউর রহমান খান পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন এবং পাঁচ মাস কারাভোগের পর মুক্তি লাভ করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে তিনি বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগে (বাকশাল) যোগ দেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিযুক্ত হন। ১৯৭৯ সালে তিনি আবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বে জাতীয় লীগ সাতদলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেয়। অবশ্য পরে তিনি জেনারেল এরশাদের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন এবং ১৯৮৪ সালের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। আতাউর রহমান খান ১৯৯১ সালের ৭ ডিসেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।