নবীজির সুপারিশ লাভের আমল

রাসুল (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। ইবাদত হিসেবে দরুদ পাঠের গুরুত্ব অনেক। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হয় এবং রাসুল (সা.)-এর নৈকট্য অর্জিত হয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন আমার নৈকট্য লাভ করবে ওই ব্যক্তি, যে আমার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে।’ (জামে তিরমিজি ৪৮৪)

রাসুল (সা.)-এর প্রতি মহব্বত ও ভালোবাসা প্রকাশের একটি মাধ্যম হলো, অধিক পরিমাণে দরুদ পেশ করা। অতএব যে ব্যক্তি নবীজিকে মহব্বত করবে, রহমতের নবী যে তাকে স্নেহের সঙ্গে গ্রহণ করে নেবেন, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে কেয়ামতের বিভীষিকাময় মুহূর্তে নবীজি (সা.) তাকে ভুলে যাবেন, তা কি ভাবা যায়! আর কেয়ামতের দিন নবীজির নৈকট্য লাভ করার একটি অর্থ হলো, কেয়ামতের দিন সে নবীজির শাফায়াত লাভে ধন্য হবে।

হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে আমার প্রতি সকালে ১০ বার আর সন্ধ্যায় ১০ বার দরুদ পড়বে, কেয়ামতের দিন সে আমার সুপারিশ লাভ করবে।’ (আত তারগিব ওয়াত তারহিব ৯৮৭) হাদিসে এসছে, রাসুল (সা.)-এর কাছে আমাদের পাঠকৃত দরুদ পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিয়োজিত রয়েছে ফেরেশতাদের বিশেষ জামাত। আমরা যখন তার প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করি, তখন তা পৌঁছে যায় তার রওজা মোবারকে। যে যেখানে যত দূরেই অবস্থান করুক না কেন, বান্দার দরুদ পৌঁছে দেওয়ার জন্য আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে নিযুক্ত রয়েছে ফেরেশতাদের বিশেষ জামাত। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে জমিনে বিচরণকারী ফেরেশতারা নিযুক্ত রয়েছেন। তারা আমার উম্মতের পক্ষ থেকে আমার কাছে সালাম পৌঁছায়।’ (সুনানে নাসায়ি ১২৮২) হাদিসের বর্ণনায় আরও পাওয়া যায়, ‘দায়িত্বশীল ফেরেশতারা দরুদ পেশকারীর নাম ও পিতার নামসহ দরুদ নবীজির কাছে পেশ করেন। কেয়ামত পর্যন্ত সবার দরুদ নবীজির কাছে এভাবে পেশ করা হতে থাকবে।’ (মুসনাদে বাজজার ১৪২৫) তাই উম্মতের কর্তব্য হচ্ছে, দরুদ পাঠের মাধ্যমে নবীজির কাছে নিজেকে বেশি বেশি পেশ করা। এই উপলব্ধি নিয়ে যদি দরুদ পড়া হয়, তাহলে নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসাও বাড়তে থাকবে ইনশাআল্লাহ।