দেশব্যাপী তিনটি বিভাগে ৮টি আউটলেট নিয়ে অ্যাফোর্ডেবল ফ্যাশন ও প্রিমিয়াম কোয়ালিটির সমন্বয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান লাইভ শপিং ৬ ডিসেম্বর আয়োজন করেছে ‘বিজনেস আলোচনা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ওপেনিং সিরোমনি’। বনানীর গ্যালেসিয়া হোটেল এন্ড রিসোর্টে আয়োজিত এই সেশনে বেকার তরুণ প্রজন্মকে ব্যবসামুখী করতে পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
কোভিড-১৯ এর লকডাউনে যখন পুরো দেশ বন্ধ, তখন বাসায় বসে আশিক খান লাইভ করা শুরু করেন এবং মানুষকে ফ্যাশন আইডিয়া দিতে থাকেন। শুরু হয় দেশব্যাপী হোম ডেলিভারি। পরের যাত্রাটা সবারই জানা, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক আউটলেট এবং ঢাকার গন্ডি পেরিয়ে চট্টগ্রাম, সিলেটে। বাংলাদেশের এমন কোনো জায়গা নেই যেখান থেকে প্রতিদিন অর্ডার আসে না, এমনকি রিকোয়েস্ট আসতে থাকে নিজেদের এলাকায় লাইভ শপিংয়ের আউটলেট চাই।
লাইভ শপিং প্রতিষ্ঠাতা আশিক খান বলেন, প্রথম থেকেই গুরুত্ব দিয়েছি আমার অডিয়েন্স কি চায়, একে একে মানুষ যুক্ত হতে হতে আজ আমাদের ৩৫ লাখ মানুষের বিশাল পরিবার, আজও মানুষের কথাকেই প্রাধান্য দিতে চাই। সবাই চান, নিজেকে স্বাবলম্বী করতে, অনেকেই চান আমাদের প্রোডাক্ট নিয়ে ব্যবসা করতে, আজকের আয়োজন তাদেরই জন্য।
মানুষের এত সাপোর্ট কিভাবে পাচ্ছেন, প্রশ্নের উত্তরে ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার বলেন, আমরা গণমানুষের ব্র্যান্ড, আমাদের প্রোডাক্ট মানুষ সাধ্যের মধ্যেই কিনতে পারেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া যেখান থেকেই অর্ডার করেন না কেন, কাস্টমারের দোরগোড়ায় প্রোডাক্ট পৌঁছে দেই, কোনো টাকা অগ্রিম ছাড়াই সাথে আবার ৭ দিনের রিটার্ন ও রিফান্ড পলিসি। এই সব সুযোগ সুবিধাই আমাদের পরিচিত করেছে মানুষের কাছে। দুঃখের বিষয় আমাদের কোনো ইন্টারন্যাশনাল রিটেল চেইন ব্র্যান্ড নেই। সুযোগ পেলে পৃথিবীর প্রতিটা প্রান্তে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই লাইভ-এর পণ্য।
তাছাড়া ব্যবসা আলোচনায় ছিল, কীভাবে ফ্রাঞ্চাইজি, ফ্যাক্টরি ওনার ও এন্টারপ্রেনারদের নিয়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করে ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় এগিয়ে যাওয়া যায় এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা যায়। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন দেশের জনপ্রিয় তথ্যপ্রযুক্তি লেখক রাহিতুল ইসলাম এবং রিটেইল ক্লথিং ব্যবসা ও RMGইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।
বাংলাদেশের অন্যান্য সব গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে ও জেলাতে লাইভ শপিং-এর আউটলেট বৃদ্ধির মাধ্যমে আধুনিক পোশাক সাশ্রয়ী মূল্যে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই ছিল ব্যবসা আলোচনা মিট এন্ড গ্রিট এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।