ক্ষতিগ্রস্ত ৪ হাজার কৃষকের পাশে ডিসি জাহিদুল ইসলাম

রাজবাড়ী‌তে বিতরণ করা প্রণোদনার পেঁয়াজ বীজের অংকু‌রোধগম (গজা‌নো) স‌ন্তোষজনক না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত তিন হাজার ৭২৫ চাষিকে পুনরায় বীজ দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

রবিবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে রাজবাড়ী সদ‌র উপ‌জেলার ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের মা‌ঝে বীজ বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়।

জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী বিভিন্ন উপজেলার  প্রণোদনার পেঁয়াজ বীজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ৩ হাজার ৭২৫ জন প্রান্তিক কৃষক। তাতে এ বছর পেঁয়াজ চাষ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন তারা। গত ১ ডিসেম্বর গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে পেঁয়াজ বীজের অংকুরোদগম না হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন জেলা প্রশাসক। পরদিনই জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভা ডেকে এর দ্রুত সমাধান কি হতে পারে তা জানতে চান তিনি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমি ৩ ডিসেম্বর একটি ৫ সদস্যের টিম গঠন করি। কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে সেদিনই সচিব স্যার  বরাবর এ বিষয়ে চিঠি পাঠাই। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে সচিব এবং উপদেষ্টা ৪ তারিখ রাজবাড়ী, ফরিদপুর এবং পাবনা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে জুরুরি ভার্চুয়াল সভা করেন।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ শোনামাত্রই জেলা প্রশাসক নিজে উদ্যোগী হয়ে ফোনে কথা বলেন কৃষি সচিব এবং কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে। তিনি তদন্তের অপেক্ষা না করেই কৃষি মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেন পুনরায় উন্নতমানের পেঁয়াজের বীজ রাজবাড়ীতে পাঠাতে। তার অনুরোধে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে পেঁয়াজ বীজ চলে আসে রাজবাড়ী জেলায়।

রবিবার নতুন করে সেই পেয়াজের বীজ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়। জেলার হোসনাবাদ পৌরসভার প্রান্তিক কৃষক সমশের শেখ জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এমন কৃষকবান্ধব জেলা প্রশাসক পেয়ে আমরা গর্বিত। আমরা আমাদের যেকোন সমস্যা নিয়ে সরাসরি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে যেতে পারব।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রবি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রাজবাড়ী জেলায় ৪০০০ জন কৃষকের মাঝে বিএডিসি হতে পাওয়া বারি পেঁয়াজ-১ জাতের বীজ ৫০০ জন, বারি পেঁয়াজ-৪ জাতের ১০০০ জন এবং তাহেরপুরী জাত ২৫০০ জনকে বিতরণ করা হয়েছিল। বীজ না গজানোর কারণে তদন্ত করে ৩ হাজার ৭২৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে পুনরায় লালতীর কোম্পানির তাহেরপুরী জাতের বীজ বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়। আজ রাজবাড়ি সদর উপজেলায় ২০০ জন, কালুখালি উপজেলায় ৩০০ জন এবং পাংশা উপজেলায় ৫০০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মাঝে এক কেজি করে পেঁয়াজ বীজ বিতরণ করা হয়েছে। বাকি বীজ এ সপ্তাহের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে তিনি জানান।