মধ্যপ্রাচ্যের স্বৈরশাসকদের এমন পরিণতি কেন?

পৃথিবীতে যুগে যুগে বহু স্বৈরশাসকের জন্ম হয়েছে। নিজের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত ও নিরঙ্কুশ করতে সেসব স্বৈরশাসক বিরোধী পক্ষ ও সাধারণ জনগণের ওপর নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়েছেন। তবে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে এসব স্বৈরশাসককে কলঙ্কিত পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। অনেকেই গদি ছেড়ে দেশ থেকে পালিয়েছেন, আবার অনেকে হয়েছেন বিচারের মুখোমুখি।

স্বৈরশাসকদের জাঁতাকলে সবচেয়ে বেশি পিষ্ট হতে হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের মানুষকে। আর এজন্যই হয়তো এ অঞ্চলে যেমন ঢেউ লেগেছিল আরব বসন্তের তেমনি স্বৈরশাসকের দুর্বলতায় উত্থান ঘটেছে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর। স্বৈরশাসকদের কবলে পড়ে একসময়ের তেল-গ্যাসসহ প্রাচুর্যে ভরপুর মধ্যপ্রাচ্য আজ ভঙ্গুর অর্থনীতি ও যুদ্ধবিদ্ধস্ত একটি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের করুণ পরিণতি ডেকে আনা এমন কিছু স্বৈরশাসকদের নিয়েই আজকের এই লেখা:

রেজা শাহ পাহলভী

শাসক থেকে স্বৈরশাসক হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের আরও একজন হলেন মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময় ১৯৪১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি ক্ষমতা লাভ করেন। ইরান সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় ও পাহলভী পরিবারের সর্বশেষ সম্রাট ছিলেন তিনি। তার শাসনামলে কিছু সময়ের জন্য ইরানের তেলশিল্প জাতীয়করণ করা হয়। শাসক হিসেবে অর্থনীতি, সামাজিক এবং রাজনৈতিক পুনর্গঠনকে ঘিরে শ্বেত অভ্যুত্থানের প্রবর্তন করেন। তাছাড়াও ইরানকে পরাশক্তিতে রূপান্তরে শিল্প-কারখানার আধুনিকীকরণ ও নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করেন।

ইরানের এমন পরিবর্তন সাধনের পরও ধর্ম নিরপেক্ষবাদী মুসলিম হিসেবে তিনি একসময় শিয়াদের সমর্থন হারানো।  এছাড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষ, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায়, দুর্নীতির কারণে ক্রমেই জনপ্রিয়তা হারান রেজা শাহ। তাছাড়াও বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, বামপন্থী দল তুদেহ পার্টি নিষিদ্ধকরণ ও গোয়েন্দা সংস্থা সাভাককে রাজনীতিতে জড়িয়ে দেশজুড়ে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করেন তিনি।

এরই মধ্যে ১৯৭৮ সালের আগস্টে একটি সিনেমা হলে আগুনে প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় বিক্ষোভ। বিরোধীদের দাবি ছিল, পাহলভির গোয়েন্দা সংস্থা সাভাক দিয়ে এ আগুন লাগানো হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র তীব্র বিক্ষোভ পুরো দেশ অচল হয়ে যায়।
আয়াতুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বে সেই বিক্ষোভ একসময় বিপ্লবে পরিণত হয়। একপর্যায়ে ইরানের শাহ বংশের শেষ শাসক মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে মিসরে আশ্রয় নেন। পরে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় চলে যান, সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

হোসনি মোবারক

টানা তিন দশকের বেশি সময় ধরে মিসর শাসন করেছেন স্বৈরশাসক হোসনি মোবারক। আরব বসন্তের ঢেউয়ে ২০১১ সালে মোবারকের ৩০ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।

দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা মোবারককে ১৯৭৫ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট বানান তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত। ১৯৮১ সালে সাদাত সামরিক বাহিনীর হাতে নিহত হলে মিসরের প্রেসিডেন্টের আসনে বসেন হোসনি মোবারক। এরপর থেকে টানা তিন দশকের বেশি সময় তিনি মিসর শাসন করেন।

প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে মোবারকের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছিল চোখে পড়ার মতো। তার শাসনামলে মিসরীয়দের ঘরবাড়ি, পোশাক, আসবাবপত্র ও ওষুধসামগ্রী উৎপাদনের হার বেড়ে যায়। বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের দিকেও নজর দিয়েছিলেন হোসনি মোবারক। তার প্রচেষ্টাতেই সৌদি আরব, ইরাকসহ বিভিন্ন আরব দেশের সঙ্গে মিসরের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়, আরব লীগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ ছিল মিসর।

তবে এসবের মধ্যেও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড় ও নির্যাতন চালানো হয় হোসনি মোবারকের আমলে। তার দীর্ঘদিনের শাসনামলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব, পারিবারিক দুর্নীতি জনমনে অসন্তোষ বাড়িয়ে তোলে। একপর্যায়ে ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি ব্যাপক আকারে মোবারকবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। বিক্ষোভ ঠেকাতে তার নির্দেশে প্রায় ৮০০ মানুষকে হত্যা করা হয়। আন্দোলনের ১৮তম দিনে ২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করেন মোবারক। এর মাধ্যমে মিসরে ৩০ বছর ধরে চলে আসা স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।

জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন স্বৈরশাসকদের একজন মিসরের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। মিসরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে সরিয়ে ২০১৩ সালে ক্ষমতা দখল করেন সিসি। শুধু ক্ষমতা দখল করেই ক্ষান্ত হননি এ স্বৈরশাসক। বরং বিচারের মুখোমুখি করেন মোহাম্মদ মুরসিকে। পরে ২০১৯ সালে বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান মিসরের সাবেক এ প্রেসিডেন্ট। শুরুতে পরোক্ষভাবে ক্ষমতার উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন জেনারেল সিসি, পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের মাধ্যমে অধিষ্ঠিত হন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে।

২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য জেনারেল সিসি সেনাপ্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর থেকে মিশরের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী জেনারেল সিসি। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় মেয়াদে দেশটির প্রেসিডেন্ট হন এ স্বৈরশাসক। এ দীর্ঘ সময়কালে তিনি বন্ধ করে দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে সব কণ্ঠস্বরকে।

সিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা-কর্মীসহ হাজার হাজার বন্দিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন এ স্বৈরশাসক। বছরের পর বছর ধরে ছোট ছোট কারাগারে গাদাগাদি করে রাখায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে এসব বন্দি। শুধু বিরেধীদের দমন নয়, দীর্ঘ সময়ে সিসি ক্রমাগত কর্তৃত্ববাদী হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণকে কুক্ষিগত করেছেন। নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন, আইনসভায় নিয়োজিত করেছেন আর্শীবাদপুষ্টদের। মুরসির পতনের পর দেশটিতে নেই কোনো বহুদলীয় রাজনীতি, নেই স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক দল গঠনের সুযোগ। কেউ স্বার্থরক্ষার জন্য আন্দোলন করতে চাইলে কঠোরভাবে দমনের চেষ্টা করা হয়।

হাফিজ আল আসাদ

স্বৈরশাসকদের তালিকায় দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকাদের একটি হচ্ছে সিরিয়ার আসাদ পরিবার। মূলত আসাদ পরিবারের ক্ষমতার শুরু ১৯৬৩ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাথ পার্টি ক্ষমতায় আসার পর। পরে ১৯৭০ সালে হাফেজ আল-আসাদ অভ্যন্তরীণ দলীয় অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ১৯৭১ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হয়ে সিরিয়ার পুরো কর্তৃত্ব নিজের করে নেন।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বরাবর ‘খেলুড়ে’ নেতা ছিলেন হাফিজ আল-আসাদ। তাকে ‘আধুনিক সিরিয়া’র রূপকার বলা হয়। আরব সোশ্যালিস্ট বাথ পার্টির নেতা হিসেবে সিরিয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছিলেন। তিনি সিরিয়াকে ক্রমেই মুক্তবাজার অর্থনীতির দিকে নিতে থাকেন। তবে নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে বিরোধীদের ওপর ধারাবাহিক নিপীড়ন চালিয়েছেন। নিজের গোত্র আলাওয়াতিদের হাতে দেশের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন। গোটা দেশে নিজের ধ্যান ধারণা আর ব্যক্তিগত ক্যারিশমা প্রচার করার পাশাপাশি নিজের ক্ষমতাও অনেক বাড়িয়ে নেন।

বাশার আল আসাদ

মধ্যপ্রাচ্যের পতিত স্বৈরশাসকের তালিকায় শেষ নাম হিসেবে যুক্ত হয়েছে সিরিয়ার সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) নামে এক সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্বে হামলার মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন যুবরাজ থেকে স্বৈরশাসকে রূপ নেওয়া আসাদ। জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ছেড়ে অজানা গন্তব্যের উদ্দেশে রাজধানী দামেস্ক ছেড়েছেন আসাদ।

২০০০ সালে বাবা হাফেজ আল-আসাদের মৃত্যুর পর ক্ষমতায় বসেন বাশার। পেশায় চক্ষু চিকিৎসা এ স্বৈরশাসক ক্ষমতা নেওয়ার পর ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে সিরিয়ার ১০০ জন বুদ্ধিজীবী সামরিক আইন প্রত্যাহার, আরও বেশি স্বাধীনতা এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক চর্চার জন্য তার কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন। ক্ষমতা নেওয়ার আগে বাশার আল-আসাদকে একজন সংস্কারপন্থী হিসেবে দেখা হতো। তবে, এই সংস্কারগুলো বেশিদিন টেকেনি। শাসন আবারও কঠোর কর্তৃত্ববাদী রূপে ফিরে যায় এবং দমন-পীড়ন নতুন করে শুরু হয়।

২০১১ সালে আরব বসন্তের জের ধরে সিরিয়ার বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্রমে তা রূপ নেয় গৃহযুদ্ধে। এই যুদ্ধে ৫ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ ঝরেছে। আর প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ২০১৩ সালের ২১ আগস্ট এই গৃহযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি নির্মমতার পরিচয় দেন বাশার। দক্ষিণ সিরিয়ার ঘৌটায় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেন তিনি। এতে সহস্রাধিক বেসামরিক নাগরিক মারা যায়।

রাশিয়া আর ইরানের সমর্থনপুষ্ট বাশার আল আসাদ নিজের ক্ষমতা অনেকটা সংহত করে রাখতে পেরেছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া নতুন লড়াইয়ে একের পর এক বড় বড় শহরের নিয়ন্ত্রণ হারায় সরকারী বাহিনী। রবিবার বিদ্রোহী দলগুলো টেলিগ্রাম বার্তায় জানিয়েছে, বাথ শাসনের ৫০ বছরের অবসান এবং সিরিয়ার জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।

সাদ্দাম হোসেন

মধ্যপ্রাচ্যের যে কয়জন শাসক থেকে স্বৈরশাসকে পরিণত হয়েছিলেন তাদের একজন ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। বিশ্বব্যাপী আলোচিত-সমালোচিত এ প্রেসিডেন্ট একসময় মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো সংকটে ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। ১৯৭৯ সালের ১৬ জুলাই রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে ইরাক শাসন করেন টানা প্রায় ২৫ বছর। এ দীর্ঘ শাসনামলে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ছিলেন অনেক বেশি সরব ছিলেন সাদ্দাম। তার এমন নীতির কারণে বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের কাছে অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি মনে করতেন, ইসরায়েল শুধু ফিলিস্তিনের জন্য ক্ষতিকর নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য দেশটি এক বিষফোঁড়া। তাই ফিলিস্তিনিদের হয়ে লড়াইয়ে তিনি ছিলেন অনেক বেশি সোচ্চার।

তবে এমন জনপ্রিয়তার পরও সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে রয়েছে ‘গণহত্যা’সহ নানান অপরাধের পাহাড়সম অভিযোগ। কথিত রয়েছে, তার ছেলের ভয়ে দুই মেয়ের স্বামী জর্ডান পালিয়ে গিয়েছিল। তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে হত্যা করেন সাদ্দাম। এছাড়াও বিরোধীদের দমনে তিনি ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছেন। বিশেষ করে শিয়া ও কুর্দিদের দমনে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ১৯৮০–এর দশকে শত শত কুর্দি গ্রামে ব্যাপক হামলা চালিয়ে অন্তত ১ লাখ কুর্দিকে হত্যা করার জন্য সাদ্দামকে দোষারোপ করেন

তার নির্যাতন ও হামলা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ১৯৯১ সালে ইরাকে নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা করা হয়। সাদ্দাম হোসেনের বাহিনীর নির্যাতনে একসময় নিশ্চিহ্ন হয়েছে বহু কুর্দি ও শিয়া পরিবার। একপর্যায়ে ইরাকে তথাকথিত গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মজুত রয়েছে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে উৎখাত করা হয় সাদ্দাম হোসেনের সরকারকে। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন সৈন্যরা সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে এবং তিন বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।