ধবলধোলাই এড়ানোর মিশনে বাংলাদেশ

সেন্ট কিটসে আজ সিরিজের শেষ ওয়ানডে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের এই সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ হেরে ইতিমধ্যেই সিরিজ হার নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। তবে ধবলধোলাই এড়াতে এবং কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে আজকের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও দল নিশ্চয়ই চাইবেন শেষ ম্যাচে ভালো পারফর্ম করে অন্তত সান্ত্বনার জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে। এই জয় শুধু ওয়ানডে সিরিজেই সান্ত্বনা দেবে না, বরং আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্যও বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। গত ১৫ বছরে দুই দলের ছয়টি ওয়ানডে সিরিজের পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এমনকি ২০১৮ ও ২০২২ সালে ক্যারিবিয়ান মাটিতে টানা দুটি সিরিজ জিতে দেশে ফিরেছিল টাইগাররা। কিন্তু এবার সেই ধারাবাহিকতায় বড় ধাক্কা লেগেছে।

প্রথম দুই ম্যাচেই ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্যাচ হেরে এখন ধবলধোলাইয়ের শঙ্কায় দল। এমন অবস্থায় সান্ত্বনার জয়ের আশা নিয়ে মাঠে নামা নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।

প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিং লাইনআপের ব্যর্থতাই দলের বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে ওপেনার তানজিদ হাসান কিছুটা স্থিতিশীল ব্যাটিং করলেও অন্য প্রান্ত থেকে একের পর এক ব্যাটসম্যানের বিদায়ে দল পড়ে যায় বিপদে। শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহর ৬২ বলে ৪৫ রানের ইনিংস এবং তানজিম হাসানের (৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা) সঙ্গে ৯২ রানের জুটিতে দল ২২৭ রানে পৌঁছালেও সেটা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

বোলিংয়ে শুরুটা ভালো করেছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে প্রথম ১০ ওভারে রানার পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। তবে ব্যাটসম্যানদের দেওয়া লক্ষ্য ডিফেন্ড করার জন্য সেটা যথেষ্ট ছিল না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সহজেই ৩৭তম ওভারে ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে।

ধবলধোলাই এড়াতে আজ ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে বাংলাদেশকে। ভালো ব্যাটিং, সঠিক ফিল্ডিং এবং বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় পাওয়া সম্ভব নয়।

এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশ দল নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সিরিজের শেষ ম্যাচে লড়াই করতে পারে কি না। ওয়ার্নার পার্কে সান্ত্বনার জয়ই হতে পারে দলের জন্য নতুন করে শুরু করার অনুপ্রেরণা।