যারা জীবিত অবস্থায় মৃত

একদা ইবনে মাসউদ (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘জীবিতদের মধ্যে মৃত কোন ব্যক্তি?’ তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি সৎকাজের আদেশ করে না এবং অসৎকাজ হতেও নিষেধ করে না। এই ব্যক্তিই সে, যার অন্তর খালি পাত্রের মতো খালি।’ যারা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ হতে বাধা দেওয়ার কাজে এগিয়ে আসে না, পবিত্র কোরআনে তাদের নিন্দাবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘বনি ইসরাইলের মধ্যে যারা কুফরির পথ অবলম্বন করেছে তাদের ওপর দাউদ ও মরিয়ম পুত্র ঈসার মুখ দিয়ে অভিসম্পাত করা হয়েছে। কেননা তারা ছিল অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘনকারী। তারা পরস্পরকে মন্দ কাজে নিষেধ করত না, যা তারা করত। তারা যা করত তা অবশ্যই মন্দ ছিল।’ (সুরা মায়েদা ৭৮-৭৯)

বনি ইসরাইলের লোকরা একে অন্যকে মন্দ কাজ হতে বাধা দিত না, যা ছিল বড় অপরাধ। কোনো কোনো মুফাসসির মন্দ কাজে বাধা না দেওয়াকেই অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করেছেন, যা তাদের অভিশপ্ত হওয়ার কারণ। এজন্য মহান আল্লাহ এ জাতির ওপর গজব পতিত করেছিলেন। মহান আল্লাহ আমাদের সৎকাজ করার এবং অসৎকাজ থেকে বিরত রাখুন। সেই সঙ্গে অন্যকেও সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার তওফিক দান করুন। এ কাজ করতে পারলে আমরা দুনিয়া ও আখেরাতে সফল হতে পারব। এটাই ইমানের দাবি। অন্যথায় এ কাজ থেকে বিরত থাকলে মহান আল্লাহ আমাদের আজাব ও গজবে নিমজ্জিত করবেন।