চট্টগ্রামের আনোয়ারায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বাবা-মা সাজিয়ে বাংলাদেশের নাগরিক হচ্ছেন মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। টাকার বিনিময়ে স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করতে এবং তা দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ করে দিচ্ছেন। অনেকে ওই এনআইডি দিয়ে পাসপোর্ট করে বাংলাদেশি হিসেবে যাচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যসহ নানা দেশে। বাংলাদেশের নাগরিক হতে স্থানীয়দের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কেও জড়াচ্ছেন রোহিঙ্গারা। অনুসন্ধানে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র কিছু অসাধু জনপ্রতিনিধিকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে এনআইডি তৈরি করছে। সম্প্রতি উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের খুরুস্কুল ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইসমাঈলকে বাবা পরিচয় দিয়ে এনআইডি করার আবেদন করেন এক রোহিঙ্গা তরুণী। গত বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ছবি তুলতে গেলে তার কথাবার্তা সন্দেহ হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওই তরুণী নিজের পরিচয় স্বীকার করেন। পরে ওই তরুণীসহ জড়িত তিনজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের নাগরিক মো. তৈয়ব তার পরিবারসহ ২০ বছর ধরে উপজেলার জুঁইদণ্ডী এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। তার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেইপিজেডের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করে আসছেন। স্থানীয়রা জানান, রোহিঙ্গারা নানা কৌশলে ভোটার হচ্ছেন। এ দায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচন অফিস এড়াতে পারে না। টাকার বিনিময় ছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দারা রোহিঙ্গা তরুণীকে বিয়ে করে এনআইডি তৈরি করে দিচ্ছেন। জুঁইদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, প্রথমে আমার কাছে এলেও আমি তাদের কাগজপত্রে স্বাক্ষর করিনি। পরে হয়তো কারও মাধ্যমে অন্যজনের কাগজপত্রের ভেতরে করে তারা স্বাক্ষর নিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু জাফর ছালেহ বলেন, ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে ভোটার হতে এলে রোহিঙ্গা তরুণীসহ তিনজনকে পুলিশে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।