নিউইয়র্কে বাংলাদেশি এলাকা জ্যাকসন হাইটসে বেড়েছে চুরি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধুষ্যিত এলাকা সোনাপট্টিখ্যাত জ্যাকসন হাইটস এলাকায় ৭৪ স্ট্রিটের একটি গহনার দোকানে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ডাকাতদলকে খুঁজছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। গত শুক্রবার জ্যাকসন হাইটসে একটি গহনার দোকানে হামলা চালিয়ে প্রায় ৮ লাখ ডলার মূল্যের গহনা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতদল।

জ্যাকসন হাইটসে ১১৫তম থানার পুলিশ জানিয়েছে, তিনজন অজ্ঞাতপুরুষ কালো হুড পরিহিত, একটি সাদা জিপ থেকে বের হয়ে ৩৭-৪০ ৭৪তম স্ট্রিটের আবিদ জুয়েলার্স নামের গহনার দোকানে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ নাগাদ তারা স্লেজহ্যামার ব্যবহার করে ডিসপ্লে উইন্ডো ভাঙে এবং দোকানে প্রবেশ না করেই প্রায় ৮ লাখ ডলার মূল্যের গহনা হাতিয়ে নেয়। পুলিশ গত বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, তারা সাদা জিপে স্থান ত্যাগ করে ৭২তম স্ট্রিট এবং ৩৫তম অ্যাভিনিউ পর্যন্ত চলে যায়, সেখানে জিপটি ফেলে দেয় এবং একটি কালো সেডান গাড়িতে চড়ে অজ্ঞাত দিকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সেই একই দুষ্কৃতিকারী দল, একটি অতিরিক্ত সহযোগীসহ, দুই দিন পর ৮ ডিসেম্বর গত রবিবার, সানসেট পার্কের ৬৮তম থানার অধীনে ব্রুকলিনে একটি গহনা দোকানকে লক্ষ্য করে। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে চারজন পুরুষ একটি নীল হোন্ডা সিভিক থেকে বেরিয়ে ৬৯১১ পঞ্চম অ্যাভিনিউ, বেই রিজের একটি দোকানে পৌঁছায় এবং স্লেজহ্যামার ব্যবহার করে ডিসপ্লে উইন্ডো ভাঙার চেষ্টা করে তারা ব্যর্থ হয়। পরে হোন্ডা সিভিক গাড়িটি নিয়ে স্থান ত্যাগ করে। গাড়ির প্লেট নম্বর পেনসিলভানিয়া এলকেএইচ ৮৬৫৩। গাড়িটি অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়। এ ঘটনার সময় কোনো সম্পত্তি চুরি হয়নি এবং কেউ আহত হয়নি।

এনওয়াইপিডি সন্দেহভাজনদের ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে তারা কালো পোশাক, হুড এবং মাস্ক পরে গহনার দোকানের দিকে ছুটে যাচ্ছে। তাদের সবার হাতেই ছিল হাতুড়ি। তাদের পরিচয় গোপন রয়েছে। এখনো প্রকাশ পায়নি। যে কেউ এই চুরির তদন্ত সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে এনওয়াইপিডির ক্রাইম স্টপারস হটলাইন ১-৮০০-৫৭৭-টিপস (৮৪৭৭) অথবা স্প্যানিশ ভাষায় ১-৮৮৮-৫৭-পিস্তা (৭৪৭৮২) নম্বরে ফোন করতে অনুরোধ জানিয়েছেন পুলিশ।

 
সর্বশেষ কম্পস্ট্যাট রিপোর্ট অনুযায়ী গত ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত, নিউ ইয়র্কের ১১৫তম থানায় ২০২৪ সালে ২০৪টি চুরির খবর পাওয়া গেছে, যা গত বছরের একই সময়ে রিপোর্ট করা হয় ১৩২টি। এ বছরে ৭২টি বেশি অর্থাৎ ৫৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ৬৮তম থানায় চুরির সংখ্যা কমেছে, ২০২৪ সালে ৮২টি চুরি ঘটেছে, যা ২০২৩ সালের একই সময়ে ৮৮টি চুরির তুলনায় ৬.৮ শতাংশ কমেছে।