ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ২৪১ জন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ৫৪৫ জন। মোট আক্রান্ত হয়েছে ৯৮ হাজার ১৮৮ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত চারজনের সবাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা। এ ছাড়া, হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৯, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬১ জন রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটিতে ৪১, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৪৬, খুলনা বিভাগে ৪৪, রাজশাহী বিভাগে ৮, ময়মনসিংহে ৮, রংপুরে একজন ও সিলেটে ২ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে।
২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৯৮ হাজার ১৮৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে ৬৩ দশমিক ১০ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৬ দশমিক ৯০ শতাংশ নারী। একই সময়ে ৫৪৫ জন ডেঙ্গুরোগী মৃত্যুবরণ করেছে। যাদের মধ্যে ৫১ দশমিক ৭০ শতাংশ নারী এবং ৪৮ দশমিক ৩০ শতাংশ পুরুষ।
প্রতি বছর বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। গত বছর দেশে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে ঢাকায় ১ লাখ ১০ হাজার আটজন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ১৭১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯ জন। গত বছর ১ হাজার ৭০৫ জন মশা বাহিত এই রোগে মারা গেছে, যা দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে ২০১৯ সালে দেশব্যাপী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন। ওই সময় চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীসহ প্রায় ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২০ সালে করোনা মহামারীকালে ডেঙ্গুর সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। ওই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জন মারা যায়। এদিকে, ২০২২ সালে ডেঙ্গু নিয়ে মোট ৬২ হাজার ৩৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। ওই বছর মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ২৮১ জন।