নবীজির প্রতি তুব্বার বাদশাহর অনন্য ভালোবাসা

হজরত রাসুল (সা.)-এর জন্মভূমি মক্কা। তিনি মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় যান। মদিনা সম্পর্কে চমকপ্রদ এক ইতিহাস আছে। ইয়েমেনে তুব্বা বংশের এক বাদশাহ ছিলেন, তার নাম আসাদ ইবনে যুরারাহ। তিনি মদিনা থেকে দামেস্কে হামলা করার ইচ্ছা করেছিলেন। ওই যুগের বাদশাহদের নিয়ম ছিল, তারা সঙ্গে একজন আল্লাহর অলি রাখত। রাসুল (সা.)-এর জন্মের প্রায় হাজার বছর আগে তুব্বার এ বাদশাহ আল্লাহর ওই অলিকে নিয়ে মদিনায় অবস্থান করেছিলেন। সকালে যখন দামেস্কের উদ্দেশে রওনা হবেন, তখন ওই অলি বাদশাহকে বললেন, আমি এখানে থেকে যাব, অন্য কোথাও যাব না। বাদশাহ জিজ্ঞাসা করলেন, কেন? তিনি উত্তরে বললেন, শুনেছি আখেরি নবী মদিনায় আসবেন। আমিও এ জায়গার বাতাস ও মাটি থেকে ঘ্রাণ পাচ্ছি যে, নবী এখানেই আসবেন। আমি নবীর আগমনের হাজার বছর আগে এসেছি। জানি না তাকে পাব কি না। তবুও আমি এখানে থাকব। অতঃপর তুব্বার বাদশাহ আল্লাহর অলিকে মদিনাতে থাকার অনুমতি দিয়ে নবীর জন্য একটি সুন্দর বাড়ি নির্মাণ করল এবং তার সঙ্গে একটি পত্র লিখে রেখে গেলেন।

পত্রের ভাষা ছিল এ রকম, ‘আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আহমাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সত্য নবী। তিনি হবেন উত্তম বংশের মধ্য থেকে। যদি আমার হায়াত তার জমানা পর্যন্ত দীর্ঘ হয়, তাহলে অবশ্যই আমি তার সহায়ক ও সাহায্যকারী হবো এবং আমি তার পক্ষ হয়ে শত্রুর মোকাবিলা করব। আর এভাবে অন্তর থেকে যাবতীয় দুঃখ-কষ্ট দূর করার প্রয়াস চালাব।’

হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় পৌঁছালেন তখন মদিনাবাসী সবাই আবেদন করেছিল যে, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমার ঘরে অবস্থান করুন! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, উটকে যেতে দাও, আল্লাহর নির্দেশে সে যেখানে গিয়ে থামবে, আমি সেখানেই অবস্থান করব। নবীর জন্মের হাজার বছর আগে বাদশাহ তুব্বা যে ঘর বানিয়ে রেখে গিয়েছিলেন, উট সেই ঘরের সামনে গিয়েই থেমে গেল। রাসুলুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বাদশাহর তৈরি করা বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করলেন তখন সাহাবি আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) তুব্বার বাদশাহর চিঠিটি তার কাছে পেশ করলেন।