কোরআনে মহাজাগতিক বিষয়ের বর্ণনা

আল্লাহতায়ালা সব সৃষ্টির স্রষ্টা। একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের অধিকারী। সৃষ্টির প্রতিটি স্তরে তিনি জ্ঞানী ব্যক্তিদের জন্য রেখেছেন জ্ঞান, গবেষণা, আবিষ্কার ও গভীরভাবে চিন্তার বহু উপকরণ মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আকাশ ও ভূপৃষ্ঠের সৃষ্টিতে এবং দিন ও রাতের পরিবর্তনের মধ্যে জ্ঞানী ব্যক্তিদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা আলে ইমরান ১৯০)

আকাশে রাতের অন্ধকারে দেখা যায় লাখ লাখ ঝলমলে তারা। দিন ও রাতের আবর্তন এবং চাঁদ ও সূর্যকে কেন্দ্র করে পূর্ণ হয় দিন, মাস ও বছর। রাতের অন্ধকারে দেখা যায় পূর্ণিমার চাঁদ। চান্দ্রমাস শেষে আবার নতুন বাঁকানো চাঁদ দেখা যায়। এ ছাড়া মহাকাশে ধূমকেতুর অবিরাম ছুটে চলা, উল্কাপি-ের পতন, নক্ষত্ররাজিকে কেন্দ্র করে গৃহ-উপগৃহের নিজ নিজ কক্ষপথে আবর্তন এবং নিজ অক্ষের ওপর আবর্তনের ঘটনাবলি কোরআনের অসংখ্য আয়াতে বিদ্যমান। আধুনিক বিজ্ঞান এসব বিষয় প্রমাণের বহু আগেই কোরআন এসব বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক ঘটনাবলির উল্লেখ করেছে, যা কোরআনের অলৌকিকত্ব এবং আল্লাহর একত্ববাদ ও সৃষ্টিজগতের ওপর তার একক এবং একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ।

কোরআনের সুরা আম্বিয়ায় মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত, সত্য ও প্রামাণ্য বর্ণনা রয়েছে। যেটাকে পরবর্তী সময়ে আধুনিক বিজ্ঞান সত্য বলে স্বীকার করেছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা কুফরি করে তারা কি দেখে না যে, আসমান ও জমিন বন্ধ অবস্থায় ছিল, অতঃপর আমি তা উন্মুক্ত করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া ৩০) পরে বহু গবেষণার পর ১৯৬০ সালে কোরআনে বর্ণিত এ মহাজাগতিক ঘটনাটি আবিষ্কৃত হয়।

কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের বর্ণনায় চন্দ্র, সূর্য, গৃহ ও নক্ষত্রের গতিপথ, দিন ও রাতের আবর্তন এবং এর বৈজ্ঞানিক কারণ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। এর প্রতিটি বর্ণনাই গবেষণার দাবিদার। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সূর্য তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে চলে, এটা মহাপ্রতাপশালী সর্বজ্ঞানী আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। আর চাঁদকে আমি কয়েকটি মঞ্জিল নির্দিষ্ট করে দিয়েছি, যা অতিক্রম করে সে পুরনো খেজুরের কাঁদির শুকনো দ-ের মতো অবস্থায় ফিরে আসে।’ (সুরা ইয়াসিন ৩৮-৩৯)

দিন ও রাতের পর্যায়ক্রমিক আবর্তন এবং চন্দ্র ও সূর্যকে কেন্দ্র করে সঠিক তারিখ নির্ণয়ের বিষয়টিও কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সূর্যের জন্য এটা সম্ভব নয় যে, সে চাঁদের নাগাল পাবে। আর রাতের পক্ষে দিনের অগ্রবর্তী হওয়াও সম্ভব নয়।’ (সুরা ইয়াসিন ৪০) আর এ দিন ও রাতের আবর্তনের সাপেক্ষে বিশ্বব্যাপী সময়ের হিসাব করা হয়।

মহাশূন্যে প্রতিটি নক্ষত্র, গৃহ, উপগৃহসহ অন্য সব বস্তুই ভেসে থাকে এবং ভেসে ভেসে নির্দিষ্ট গতিপথে চলে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর প্রতিটি বস্তুই মহাশূন্যে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।’ (সুরা ইয়াসিন ৪০)

রাতের আকাশে শত সহস্র নক্ষত্র আলো দেওয়ার মাধ্যমে পৃথিবীর পরিবেশকে ক্ষীয় আলোয় আলোকিত করে রাখে। এগুলোর অধিকাংশই সূর্যের তুলনায় আয়তনে বড়। এদের অবস্থানও লাখ লাখ আলোকবর্ষ দূরে। এ ছাড়া দিনে ও রাতে মাঝেমধ্যেই পৃথিবীর আকাশে উল্কাপাতের দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। মহাজাগতিক এসব ঘটনার বর্ণনা কোরআন অত্যন্ত সংক্ষিপ্তাকারে ও সুন্দরভাবে মানবজাতির কাছে উপস্থাপন করেছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি পৃথিবীর আসমানকে সুসজ্জিত করেছি নক্ষত্ররাজির মাধ্যমে। এগুলোকে শয়তানদের জন্য নিক্ষিপ্ত উল্কাস্বরূপ বানিয়েছি এবং তাদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি প্রস্তুত করেছি।’ (সুরা মুলক ৫)