সামরিক আইন জারি করার কারণে পার্লামেন্টের ভোটে অভিশংসিত হওয়া ইউন সুক ইওলকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দায়িত্ব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল শনিবার অভিশংসনের কয়েক ঘণ্টা পর দেশটির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার বরখাস্তের আদেশ জারি করে প্রেসিডেন্ট দপ্তর।
অবশ্য দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত ও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার যে ক্ষমতা ছিল তা কেড়ে নেওয়া হলেও সাংবিধানিক আদালত তার রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ না করা পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবেই থাকবেন। এই সময়ে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সো।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে বিবিসি জানাচ্ছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে হঠাৎ করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ইউন। কিন্তু পার্লামেন্ট সেই আদেশের বিরুদ্ধে ভোট দিলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। এরপর থেকেই তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে উঠতে থাকে। গত সপ্তাহেও তার বিরুদ্ধে পার্লামেন্ট অভিশংসনের একদফা ভোটাভুটি হয়েছিল, যদিও সেই ভোটে তিনি টিকে যান। তবে দ্বিতীয় দফায় আর টিকে থাকতে পারলেন না ইউন।
গতকাল শনিবার পার্লামেন্টের ৩০০ সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০৪ জন তাকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট ইউনের নিজের দলের অন্তত ১২ জন এমপি তাকে অভিশংসনের পক্ষে মত দেন।
গতকাল অভিশংসনের ভোটের আগেই হাজার হাজার মানুষ দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্টের সামনে জড়ো হন। ভোটের ফলাফল জানার পর তাদের উল্লাস মিছিল করতে দেখা গেছে।
ইউনের দল পিপলস পাওয়ার পার্টির প্রধান হান ডং-হোন বলেছেন, তিনি ভোটের ফলাফল মেনে নিয়েছেন এবং এটাকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। আর প্রেসিডেন্ট ইউন এক বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি সাময়িকভাবে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখছেন। তিনি বলেন, ‘সাময়িকভাবে আমার যাত্রা বন্ধ রাখছি। তবে গত আড়াই বছর ধরে যে পথে আমি হেঁটে আসছি, সেই যাত্রা থামবে না।’
তবে তিনি আসলে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আরও কতটা সামনে নিয়ে যেতে পারেন তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এর মধ্যেই ইউন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মতো অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে পুরোপুরি ক্ষমতাচ্যুত করা হবে কি না, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সে দেশের সাংবিধানিক আদালত। পার্লামেন্টে অভিশংসনের ছয় মাসের মধ্যে এই বিষয়ে ওই আদালতের রায় জানাতে হবে যে, প্রেসিডেন্ট ইউন প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকবেন নাকি বরখাস্ত হবেন।
সাংবিধানিক আদালত যদি অভিশংসনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে, তাহলে সেই রায় দেওয়ার পর থেকে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম বলছে, প্রেসিডেন্ট ইউনের বিষয়ে আলোচনা করতে আগামীকাল সোমবার সাংবিধানিক আদালতে বসার কথা রয়েছে।