মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাষাড়া এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের তেলের ট্যাংকি থেকে জুনায়েদ হোসেন (১২) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। প্রায় আড়াই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় গত রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় যুবলীগ নেতার মালিকানাধীন হাষাড়া ফিলিং স্টেশন থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করে।
এদিকে উদ্ধারকাজে গিয়ে ট্যাংকি বিস্ফোরণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। এ ছাড়া নিহত শিশু জুনায়েদের সঙ্গী ফিলিং স্টেশনটির শ্রমিক আরেক শিশু মো. রাহাতের (১৩) খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তেলের ট্যাংকির ভেতর জমে থাকা গ্যাস থেকে ওই শিশুর মৃত্যু হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। ঘটনার পর থেকে ফিলিং স্টেশনসংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি।
শিশু জুনায়েদ হাষাড়া এলাকার নুর হোসেনের ছেলে। নিখোঁজ শিশু রাহাত উপজেলার আলমপুর এলাকার মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মী মো. রাসেলসহ (২২) আহত সবাইকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার হাষাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাব্বির আহমেদ নাসিমের মালিকানাধীন হাষাড়া ফিলিং স্টেশনটি এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। তবে এটির দেখভাল করত যুবলীগ নেতার ভাই মানিক। সেখানকার কর্মচারীদের চা আনা-নেওয়ার কাজ করত রাহাত নামে এক শিশু। আর প্রতিদিন শিশু রাহাতের সঙ্গে খেলাধুলা করতে সেখানে ছুটে যেত শিশু জুনায়েদ। বন্ধ থাকা এ ফিলিং স্টেশনটি আবার চালু করার লক্ষ্যে রবিবার সন্ধ্যা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছিল।
নিখোঁজ রাহাতের বাবা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার ছেলে রাহাত সেখানে চা আনা-নেওয়ার কাজ করত। রাহাতের সঙ্গে খেলা করতে সেখানে যাওয়া-আসা ছিল জুনায়েদের। রবিবার দুপুরে বাড়ি থেকে খাওয়া শেষ করে ফিলিং স্টেশনে গিয়েছিল রাহাত।
শ্রীনগর থানার ওসি কাইয়ুম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শিশু জুনায়েদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে নিখোঁজ রাহাত নামে অন্য শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়নি। শিশু জুনায়েদ তেলে ট্যাংকিতে কীভাবে গেল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের গাফলতিতেই এ ঘটনা ঘটেছে। শ্রীনগর থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।