বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর গঠিত তদন্ত কমিটির সেনাবাহিনী সদস্য বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হাসান নাসির বলেছেন, ‘বিডিআর হত্যাকাণ্ড ঘটার পরেই যে জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন হয় সেই কমিটিতে সেনাবাহিনীর সদস্য প্রতিনিধি হিসেবে আমি তদন্ত কমিটির সদস্য হই। প্রথম তদন্ত কমিটিতে থাকা সদস্যরা নানাভাবে তদন্ত কমিটিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। তদন্তের নামে তামাশা শুরু করে। তখন আমরা সেনাবাহিনীর সদস্যরা তদন্ত এগিয়ে নিতে শুরু করি। এক পর্যায়ে তদন্তে সেনসিটিভ তথ্য পেতেই আমাকে তদন্তে নিষ্ক্রিয় রাখা হয়। আমাকে শুধুমাত্র স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য ডাকা হতো।’
আজ মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে স্বাধীন তদন্ত কমিশনের দাবিতে মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেছেন।
মোহাম্মদ হাসান নাসির বলেন, প্রথম তদন্ত কমিটি খসড়া প্রতিবেদন করার পর আমাকে স্বাক্ষরের জন্য ডাকা হয়। তখন আমি তদন্ত প্রতিবেদন দেখার পর স্বাক্ষর দেই, তবে আমার স্বাক্ষর নিচে নোট অব ডিসেন্ট দেই। সেখানে আমি লিখি, এই তদন্ত সঠিক হয়নি। পুনরায় তদন্ত প্রয়োজন। তারপরেই আমাকে তদন্ত কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। মূলত তদন্তের নামে শেখ হাসিনা প্রহসন করেছে। বিজিবিকে ধ্বংস করাই ছিল শেখ হাসিনার মূল লক্ষ্য। তাই বিডিআর হত্যার সুষ্ঠু তদন্তে স্বাধীন কমিশন হওয়া জরুরি। যেখানে আমলারা নয় থাকবে সেনাবাহিনী সদস্য, মানবাধিকার কর্মী ও ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।'
এদিকে নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের মুক্তি ও চাকরিচ্যুত সদস্যদের চাকরি ফেরত পাওয়ার দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাজির হয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চান।