ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় একই স্থানে মতবিনিসময় সভা নিয়ে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। দরজা বন্ধ পৌঁনে একঘণ্টার মধ্যেই সভা শেষ করে জাতীয় নাগরিক কমিটি। তবে বিকেল তিনটার মতবিনিময় সভা সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় অনুষ্ঠিত হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল তিনটার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় নাগরিক কমিটির ব্যানারে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসন থেকে হলরুম ব্যবহারের অনুমতি নেয় নাগরিক কমিটির নেতারা। বিকেল চারটার দিকে নাগরিক কমিটির প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনের সামনে জড়ো হন। ওই সময় অনুষ্ঠান করতে বাধা দেয় উপজেলা বিএনপির বিভিন্নসহ অংঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেন। দুই পক্ষের মধ্যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মিলনায়তনের দরজা বন্ধ করে মতবিনিময় সভা করে জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা। সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে তাদের সভা শেষ হয়।
উপজেলা বিএনপির লোকজনদের দাবি, তারা জানতে পারেন নাগরিক কমিটির অনুষ্ঠানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করতেই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। পরে বিএনপির লোকজন একত্রিত হয়ে মিলনায়তনের সামনে যান। সে সময় বিএনপিসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে খারাপ অঙ্গভঙ্গি দেখান নাগরিক কমিটির নেতাকর্মীরা।
নাসিরনগর সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাতেন বলেন, এখানে যা হচ্ছে তা হলো আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের কাজ। নাগরিক কমিটি সভা করলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু নাগরিক কমিটির নাম দিয়ে আওয়ামী লীগের কোনো লোকজন অনুষ্ঠানে আসলে আমরা তা প্রতিহত করব।
জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহাদী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আমরা অনুষ্ঠান শুরু করি। বিকেল তিনটায় সভা শুরুর কথা ছিল। মতবিনিময় সভা শুরুর আগে জানতে পারি কিছু লোকজন আমাদের অনুষ্ঠান করতে দিবে না। আরও জানতে পারি, আমাকে এই অনুষ্ঠানে আসতে প্রতিহত করা হবে। এ ছাড়াও ইউএনও অনুষ্ঠানের অনুমতির দেওয়ার বিষয়টি এখন অস্বীকার করছেন। ইউএনও আমায় মেসেজ দিয়ে জানান এখানে আপনারা অনুষ্ঠান করলে অন্যরা বাধা দিবে। এখানে কিছু অনুপ্রবেশকারী নাকি আছে। তাই আপনারা এখানে অনুষ্ঠান করতে পারবেন না। কারা অনুপ্রবেশকারী তা ইউএনও বলতে পারেরননি।
নাসিরনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, একই স্থানে দুই পক্ষ অনুষ্ঠান করার কারণে একটি ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির লোকদের অভিযোগ ছিল নাগরিক কমিটির সভায় ছাত্রলীগের লোকজন আছে। তাই অনুষ্ঠান বিলম্ব হয়।
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, সভার বিষয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটি আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেয়নি এবং কোনো আবেদন করেনি। তবে উপজেলা যুবদলের সভার জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। পরে নাগরিক কমিটির লোকজন নিজের মতো করে মিলনায়তনে সভা করেছে।