মুমিন সর্বদা মহান আল্লাহর জন্য নিবেদিত। তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মহান আল্লাহর বিধান মোতাবেক অতিবাহিত হয়। ফলে সে জীবনের প্রতিটি কাজে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সওয়াব লাভে ধন্য হয়। জীবনাচারের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের শিষ্টাচার রয়েছে। রাত্রিযাপন ও ঘুমানোর ব্যাপারেও ইসলাম আদব ও শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছে।
এশার নামাজের পর অনর্থক গল্পগুজব এবং দীর্ঘ রাত পর্যন্ত অহেতুক জেগে থাকা রাসুল (সা.) অপছন্দ করতেন। তবে দ্বীনি শিক্ষা দিতে তিনি কখনো কখনো রাত জাগতেন। মুসলমানদের সম্পর্কে কল্যাণকর পরামর্শের জন্য অনেক সময় রাতে তিনি আবু বকর (রা.)-এর বাসায় যেতেন। (তাহাবি শরিফ) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আমাদের রাতের গল্পগুজবে মত্ত হতে নিষেধ করতেন। (ইবনে মাজাহ) ঘুমাতে যাওয়ার আগে বিছানা ঝেড়ে নেওয়া উচিত। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, যদি তোমাদের কেউ শয্যায় যায়, তখন সে যেন তার বিছানাটা ঝেড়ে নেয়। কারণ সে জানে না যে, বিছানার ওপর তার অনুপস্থিতিতে পীড়াদায়ক কোনো কিছু আছে কি না। (সহিহ বুখারি)
ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠের গুরুত্ব অনেক। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তুমি যখন শয্যা গ্রহণ করবে, তখন আয়াতুল কুরসি পড়বে। তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বদা তোমার জন্য একজন রক্ষক থাকবেন। এতে সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে আসতে পারবে না।’ (সহিহ বুখারি) রাসুল (সা.) বলেন, যদি কেউ রাতে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করে, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।’ (সহিহ বুখারি) আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) প্রতি রাতে যখন বিছানায় যেতেন, তখন দুই হাত একত্রিত করে তাতে সুরা ইখলাছ, ফালাক ও নাস পড়ে ফুঁ দিতেন। অতঃপর মাথা ও চেহারা থেকে শুরু করে যত দূর সম্ভব দেহে তিনবার দুই হাত বুলাতেন।’ (সহিহ বুখারি) হাদিসে ঘুমানোর আগে কয়েকটি দোয়া বর্ণিত হয়েছে। সব দোয়া পড়তে না পারলেও ছোট এ দোয়াটি পড়া কাম্য। তা হলো ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! তোমার নামে আমি শয়ন করছি এবং তোমারই দয়ায় আমি পুনরায় জাগ্রত হবো।