নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। নামাজ মহান আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক স্থাপনের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। কেয়ামতের দিন বান্দার আমলগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। নামাজের হিসাব সঠিক হলে অন্যান্য আমলের হিসাবও সহজ হবে। পবিত্র কোরআনের অন্তত ৮২টি স্থানে নামাজের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। নামাজকে গুরুত্বসহকারে আদায় করা এবং নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য খুবই জরুরি। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমরা নামাজসমূহের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষভাবে মধ্যবর্তী নামাজের ব্যাপারে।’ (সুরা বাকারা ২৩৮)
হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘নামাজ হলো দ্বীনের স্তম্ভ। সুতরাং যে নামাজ আদায় করল সে দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করল। আর যে নামাজকে ত্যাগ করল, সে দ্বীনকে ধ্বংস করল।’ (শুআবুল ইমান ২৫৫০) নামাজ আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য নামাজে একাগ্রতা, একনিষ্ঠতা ও বিনয়ী হওয়া জরুরি। যেটাকে আরবি ভাষায় ‘খুশুখুজু’ বলা হয়। এই খুশুখুজু বা একাগ্রতা ছাড়া নামাজ কবুল হয় না। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘দুর্ভোগ সেই সকল নামাজির জন্য, যারা স্বীয় নামাজের ব্যাপারে উদাসীন।’ (সুরা মাউন ৪-৫) মহান আল্লাহ অন্যত্র ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাজে নম্রতা অবলম্বন করে।’ (সুরা মুমিনুন ১-২) অন্যত্র মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন, ‘যখন তারা নামাজে দণ্ডায়মান হয়, তখন তারা অত্যন্ত অলসতার সঙ্গে দণ্ডায়মান হয়। শুধু লোকদের দেখায়। তারা আল্লাহর স্মরণ খুব কমই করে থাকে।’ (সুরা নিসা ১৪২)
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের কেউ যদি নামাজে দাঁড়ায়, সে যেন তার মনোযোগ আল্লাহর দিকে নিবদ্ধ রাখে।’ (সহিহ বুখারি) অপর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন নামাজ পড়ে, তার নামাজে যতটুকু মনোযোগ থাকে, কেবল সেই অংশই আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয়।’ (মুসনাদে আহমদ)
এমন অনেক আয়াত ও হাদিসে নামাজের একাগ্রতা ও একনিষ্ঠতার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
যার দ্বারা এটাই প্রতীয়মান হয় যে, যার নামাজে একাগ্রতা বা খুশুখুজু নেই, তার নামাজ অর্থহীন ও অন্তসারশূন্য হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই একাগ্রতা ও মনোযোগ আমরা কীভাবে অর্জন করব? সেটার সমাধানও আমরা হাদিস থেকে পাই। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করো, যেন তুমি তাকে দেখছ। যদি তুমি তাকে দেখতে না পাও, তবে তিনি তো তোমাকে অবশ্যই দেখছেন।’ (সহিহ বুখারি) এ ছাড়া নামাজে পাঠকৃত আয়াতের অর্থের প্রতি খেয়াল করা, রুকনসমূহ যথাযথভাবে আদায় করা, জান্নাত-জাহান্নামের কথা স্মরণ করা, এগুলো নামাজে একাগ্রতা ও মনোযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হয়ে থাকে। যদি একাগ্রতার সাথে নামাজের অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তাহলে এতে যেমন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হবে তেমনি তা আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তি লাভেরও কারণ হবে। এর মাধ্যমে আমরা ইহকালীন ও পরকালীন সাফল্য লাভ করতে পারব ইনশাআল্লাহ।