খুলল তত্ত্বাবধায়কে ফেরার পথ

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা বাতিল বলে রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরে আসার পথ সুগম হলো। একই সঙ্গে এ দুটি ধারাসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪(২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে বাতিলের রায় দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া রায়ে সংবিধানের যেকোনো সংশোধনী আনতে গণভোটের বিধান পুনরুজ্জীবিত করতে বলা হয়েছে। তবে আদালত বলেছে, পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল হচ্ছে না। ৫৪টি বিষয়ের মধ্যে ৬টি বাদে বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী জাতীয় সংসদ। 

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পৃথক রিট আবেদনের ওপর দেওয়া রুল আংশিক মঞ্জুর করে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলে, ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করা গণতন্ত্র, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, যেগুলো সংবিধানের মূল কাঠামো, তা ধ্বংস করেছে।’

রিটকারী ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রুলের শুনানিতে আদালতকে সহায়তাকারী (ইন্টারভেনার) আইনজীবীরা হাইকোর্টের এই রায়কে ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী বলে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন, দেড় দশক ধরে গণতন্ত্র, ভোটাধিকারের চর্চার ওপর বারবার যে আঘাত এসেছে, তা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল হওয়ার কারণে।

তবে এ রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল হলো কি না এমন আলোচন সামনে এসেছে। আইনজীবীরা বলেন, হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার চূড়ান্ত অবস্থান জানা যাবে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মামলা নিয়ে রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) রায়ের পর। 

গতকাল হাইকোর্টের রায়ে ফিরছে গণভোটের বিধান। যেটি পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিলুপ্ত করা হয়েছিল। এ বিধানটি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল। ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনীতে যুক্ত হওয়া এ অনুচ্ছেদটি সম্পর্কে হাইকোর্ট বলেছে, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধান বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো।

২০১১ সালের ৩০ জুন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া এ সংশোধনীতে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনসংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার পাশাপাশি  ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন করা হয়। গতকাল বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের রায়ে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল বলে রায় দিয়েছে। 

একই সঙ্গে এ দুটি ধারাসহ পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪(২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে বাতিলের রায় দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া রায়ে সংবিধানের যেকোনো সংশোধনী আনতে জনমত যাচাইয়ে আগের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান পুনরুজ্জীবিত করেছে আদালত। ৭ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, রহিত ইত্যাদি অপরাধে এবং ৭খ সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করাসহ এগুলোকে রাষ্ট্রদ্রোহীর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ৪৪(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোনো আদালতকে তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ওইসব বা এর যেকোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করতে পারবে। হাইকোর্টের রায়ে এই অনুচ্ছেদটি বাতিল করা হয়েছে। 

পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৮ আগস্ট সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান, সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ এবং দুই তরুণ ভোটার জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমানের পক্ষে জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। পঞ্চদশ সংশোধনী কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে গত ১৯ আগস্ট রুল দেয় হাইকোর্ট। রুল সমর্থন করে শুনানিতে আদালতকে সহায়তা (ইন্টারভেনার) করতে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি আবেদন করলে হাইকোর্ট তা মঞ্জুর করে। গত ৩০ অক্টোবর রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়। ১২ কার্যদিবস শুনানি নিয়ে গত ৪ ডিসেম্বর রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৫ ডিসেম্বর রায়ের জন্য এ দিন (১৭ ডিসেম্বর) ধার্য করে আদালত। এ মামলায় রিট আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, ড. শরীফ ভূঁইয়া, রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, রুহুল কুদ্দুস কাজল, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন।

যেভাবে এলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং বাতিল হলো : ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতন হয়। এরশাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তর করতে ওই সময় সংবিধান সংশোধন ছাড়াই অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর দাবিতে ও আন্দোলনের মুখে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির সরকার ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদে ত্রয়োদশ সংশোধনী পাস করে। এর মাধ্যমেই সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে বিধান আনা হয়েছিল, তার অধীনে নির্বাচনে ওই বছরের ১২ জুন ক্ষমতায় এসেছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। ওই সময়ের সংবিধান অনুযায়ী সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান। তিনি দায়িত্ব না নিলে তার আগের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা। তাদের কেউ দায়িত্ব নিতে না চাইলে আপিল বিভাগের বিচারকদের মধ্যে যিনি সব শেষ অবসরে গেছেন, তিনি হবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান। চতুর্থ উপায় হচ্ছে সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা। সর্বশেষ উপায় হিসেবে রাষ্ট্রপতির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে পর বিএনপি সরকার বিচারপতিদের বয়স পরিবর্তন করলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক সংকট চরমে ওঠে। আওয়ামী লীগ অভিযোগ করেছিলো বিএনপি সমর্থিত বিচারপতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করতেই বিচারপতিদের বয়স পরিবর্তন করা হয়েছে। এ নিয়ে সংঘাত সহিংসতা দেখা দেয়। পরে ২০০৬ সালে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের সবগুলো বিকল্প না পেয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ক্ষমতায় আসে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তারা দু বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে যে নির্বাচন হয় তাতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলো আওয়ামী লীগ। ওই আওয়ামী লীগের প্রস্তাবেই ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবিধান থেকে বাতিল করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে আসছে।

গণঅভ্যূত্থানে গত ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আনা ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে গত ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর  সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির  মনির আপিল বিভাগে আবেদন করেন। এর আগে গত ১৬ অক্টোবর একই বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রিভিউ করেছিলেন। তার আগে ২৫ আগষ্ট সুজনের পক্ষে বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন রিভিউ করেছিলেন। এ রিভিউ আবেদনটি বিচারাধীন রয়েছে।

রায়ের অর্থ হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার বৈধ: রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান হাইকোর্টের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় দুপুরে তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করাটা আদালত অবৈধ বলেছে। এর অর্থ হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার বৈধ। এটা হলো একটা ব্যাখ্যা। আরেকটি ব্যাখ্যা হলো, ত্রয়োদশ সংশোধনীর মামলার রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) বিচারাধীন আছে। এখানে (হাইকোর্টের রায়) যে ফাইন্ডিং তাতে আপিল বিভাগ একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’ শুনানি নিস্পত্তি ও রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসার বিষয়টি সমাধান হতে পারে।

যা বলছেন অপর আইনজীবীরা: হাইকোর্টের এই রায়কে যুগান্তকারী বলে উল্লেখ করেছেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ইন্টারভেনার হিসেবে শুনানি করেছিলেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই রায়টা একটি যথাযথ রায় হয়েছে। আমরা মূলত যেসব বিষয়ের ওপর শুনানি করেছি তার প্রতিফলন এই রায়ে হয়েছে। এখন এই রায়ের ফলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেটি আর থাকলো না। আমরা এই রায়কে অভিনন্দন জানাই।’ এক প্রশ্নে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে সেটি এখনই বলার সময় আসেনি। রায়ে কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। তবে, কথা হচ্ছে এখন যে অন্তর্বর্তী সরকার আছে সংবিধান সংস্কার করতে আর কোনো বাধা নেই।’ তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ সংশোধনী নিয়ে রিভিউ মামলার শুনানি ও রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অবস্থানের বিষয়টি পরিস্কার হবে।’   

হাইকোর্টের এই রায়কে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে রিটকারীদের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর দুটি ছায়া ছিল। একটি হলো পঞ্চদশ সংশোধনীর ছায়া। আরেকটি হলো বিচারপতি খায়রুল হকের দেওয়া ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়। এর মধ্যে আজকে (গতকাল) হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে একটি ছায়া সরে গেল। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় ফেরার পথে অর্ধেক অগ্রগতি হয়েছে বলা যায়।’ তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলা নিয়ে একটা রিভিউ আবেদন (রায় পুনর্বিবেচনা) আপিল বিভাগে বিচারাধীন আছে। সেখানে যদি আমরা সফল হই তখনই বলা যাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরেছে। এখন সংবিধানে ফিরছে বলা যাবে। কিন্তু আপিল বিভাগে একটি মামলা যেহেতু বিচারাধীন। তাই এ বিষয়ে আমাদেরকে আরও অপেক্ষা করতে হবে।’ ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলায় রিভিউ শুনানি আগামী মাসের শুরুর দিকে শুরু হতে পারে।