খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন এবং ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উপলক্ষে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে পুলিশ। সেইসঙ্গে ফানুস ওড়ানো ও পটকা আর আতশবাজি পোড়ানোর ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুভ বড়দিন এবং থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কৌশলগত স্থানে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ক্রাইম সিন ভ্যান, কুইক রেসপন্স টিম এবং সোয়াট টিম ইত্যাদি মোতায়েন থাকবে। বড়দিন এবং থার্টি ফার্স্ট নাইটে পটকা, আতশবাজিসহ ফানুস ওড়ানো যাবে না।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলমগীর আলম। তিনি বলেন, ‘খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন এবং থার্টি ফার্স্ট নাইট নিরাপদে, নির্বিঘেœ উদযাপনের লক্ষ্যে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’
সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বড়দিন এবং থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি আপলোড করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গুজব প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং ও সাইবার প্যাট্রলিং জোরদার করা হবে। এ ছাড়া সভায় সারা দেশে গির্জাগুলোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আয়োজকদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, গির্জাগুলোয় পর্যাপ্ত আলো, স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর বা চার্জার লাইটের ব্যবস্থা রাখতে অনুরোধ জানানো হয়। থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কক্সবাজার, কুয়াকাটাসহ দেশের সব পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে। কেউ উচ্চস্বরে গাড়ির হর্ন বাজালে ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি বা মোটরবাইক চালালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. আকরাম হোসেন, স্পেশালে ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, সেন্ট ম্যারিস ক্যাথিড্রাল চার্চের পাল পুরোহিত ফাদার আলবার্ট রোজারিও, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিও ও যুগ্ম মহাসচিব জেমস সুব্রত হাজরা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলার পুলিশ সুপাররা অনলাইনে সভায় সংযুক্ত ছিলেন