সংকর পদ্ধতির দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদে ভারসাম্য

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জাতীয় জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হলো, কীভাবে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ বন্ধ করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়। এই লক্ষ্য অর্জনে সংবিধান, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, নির্বাচনব্যবস্থা, পুলিশ বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন এই ছয়টি ক্ষেত্রে সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে ছয়টি পৃথক সংস্কার কমিশন কাজ করছে। স্বৈরাচার হাসিনা সরকার একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধন, নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন, সব প্রতিষ্ঠানে নজিরবিহীন দলীয়করণ, প্রহসনমূলক নির্বাচন আয়োজন এবং ভিন্নমতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে পেরেছিল।

তাই, সব ক্ষেত্রে টেকসই সংস্কার একটি মূল সূত্রে গাঁথা শাসন কাঠামোয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা। যে ছয়টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়ে সংস্কারের জন্য কমিশন গঠন করা হয়েছে, প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ছোট-বড় বহু সংস্কারের সুযোগ রয়েছে। তবে ক্ষমতার ভারসাম্যের মৌলিক বিষয়ে স্থায়ী সমাধান না হলে, এসব ক্ষেত্রভিত্তিক সংস্কার টেকসই হবে না। যদি একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধন, আইন প্রণয়ন ও পরিবর্তন এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলদাসদের নিয়োগের সুযোগ থেকে যায়, তবে যত সংস্কারই করা হোক না কেন, সেগুলোর কার্যকারিতা এবং স্থায়িত্ব ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

বিগত সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে ওঠার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ ছিল সংবিধান এককভাবে সংশোধন করার ক্ষমতা। একতরফাভাবে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তারা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা বাতিল করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। এর মূল কারণ বাংলাদেশের বিদ্যমান ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ পদ্ধতির জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই ব্যবস্থায় অনুপাতের ভিত্তিতে প্রাপ্ত ভোটের সঙ্গে আসন সংখ্যার প্রায়ই বড় ধরনের বৈষম্য থাকে। একটি দল প্রায় সমান সংখ্যক ভোট পেলেও আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম হতে পারে এবং পরাজিত দলের মোট ভোটের হার অনেক বেশি হলেও জয়ী দল এককভাবে রাষ্ট্রপরিচালনার সব সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এমনকি, ক্ষেত্রবিশেষে সংবিধানের মতো মৌলিক বিষয়েও একতরফাভাবে পরিবর্তন করার ক্ষমতা পেয়ে যায়। এই কারণে প্রায়ই একে ‘winner-takes-all’ ব্যবস্থা বলা হয়।

যেমন ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলগতভাবে মোট প্রদানকৃত ভোটের ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ২৩০টি আসনে বিজয়ী হয়, যা মোট আসনের ৭৭ শতাংশ। এর মাধ্যমেই দলটি একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই- তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অপরপক্ষে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট মোট ভোটের ৩৭.৬১ শতাংশ ভোট পেয়েও ৩৩ আসনে জয়লাভ করে, যা মোট আসনের মাত্র  ১১ শতাংশ। অথচ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট যদি তাদের প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে অর্থাৎ ১১৩টি আসন পেত, তাহলে আওয়ামী লীগ এককভাবে বা তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের মাধ্যমে একতরফাভাবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করতে পারত না। তাই স্বাভাবিকভাবেই জুলাই বিপ্লবের পর থেকে সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলো এবং সুশীল সমাজের মধ্যে ব্যাপকভাবে আলোচনা চলছে।

কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এককক্ষ বিশিষ্ট সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু করার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এটি সরকারের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। বাংলাদেশের ইতিহাসে গ্রহণযোগ্য যে চারটি নির্বাচন হয়েছে (১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮), সেগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, কোনো দলই এককভাবে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট অর্জন করতে পারেনি। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি চালু হলে এ পরিস্থিতি আরও প্রকট হতে পারে, যেখানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা কার্যত শূন্য হয়ে দাঁড়াবে। ফলস্বরূপ, ঝুলন্ত পার্লামেন্ট তৈরি হবে, যেখানে সরকার গঠনের জন্য দলগুলোকে কোয়ালিশন তৈরি করতে হবে। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে কোয়ালিশন সরকারের স্থায়িত্ব একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। কোয়ালিশন সরকারের মধ্যে যেকোনো ছোটখাটো মতবিরোধ দ্রুত বড় আকার ধারণ করতে পারে, যার ফলে সরকার অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। তা ছাড়া কোয়ালিশন সরকারের গঠনপ্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া কিছু দল বা ব্যক্তি যদি ‘দুরভিসন্ধিমূলক আচরণ’ করে, তবে পুরো সরকার তাদের কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে যেতে পারে। তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকি দিয়ে সরকারকে চাপে ফেলতে পারে। এটি সরকারের নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে। তাই এককক্ষবিশিষ্ট সংসদে আনুপাতিক ভোট চালু করলে তা ক্ষমতার ভারসাম্যের বদলে অতিরিক্ত অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। 

সুতরাং সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রেখে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে আমাদের প্রয়োজন একটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংকর পদ্ধতির পার্লামেন্ট। এই সংকর পদ্ধতিতে নিম্নকক্ষে প্রচলিত ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ ভোটিং পদ্ধতি রেখে উচ্চকক্ষে আনুপাতিক পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে। আনুপাতিক ভোটের ভিত্তিতে একটি উচ্চকক্ষ গঠন করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার, আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চপর্যায়ের নিয়োগের জন্য উচ্চকক্ষের অন্তত ৬০ শতাংশ সদস্যের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করতে হবে। বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবে কোনো রাজনৈতিক দলেরই ৪৫-৪৬ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ার নজির নেই। তাই আনুপাতিক ভোটে গঠিত উচ্চকক্ষের ৬০ শতাংশ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন হলে, একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে উচ্চকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে, যা বৃহৎ জাতীয় ঐকমত্য ব্যতীত শুধু দলীয় বা জোটগত স্বার্থে সংবিধান কাটাছেঁড়া করার ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে লাঘব করবে। নিম্নকক্ষে ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ ভোটিংয়ে ২০০ আসন পেয়েও কোনো দল এককভাবে সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না। অপরপক্ষে, সরকার গঠন, বাজেট প্রণয়ন, উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং অনাস্থা প্রস্তাবের এখতিয়ার প্রচলিত ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট ভোটিং পদ্ধতিতে গঠিত নিম্নকক্ষের ওপর ন্যস্ত করতে হবে, যাতে সরকারের কার্যক্রম ও স্থিতিশীলতা নিয়ে সংকট তৈরি না হয়। উচ্চকক্ষ মূলত রাষ্ট্রের কিছু মৌলিক এবং কাঠামোগত ক্ষেত্রে সরকারি দলের একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিরোধ করে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করবে।

রাষ্ট্রের সাংবিধানিক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের ৬০ শতাংশ সদস্যের অনুমোদনের শর্ত এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ থেকে রক্ষা করবে। উদাহরণস্বরূপ, পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার বন্ধ করার জন্য, স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করার প্রস্তাব এসেছে। এক্ষেত্রে ঝুঁকি হচ্ছে রাজনৈতিক সরকার যদি পুলিশ কমিশনের প্রধান ও অন্যান্য সদস্যের নিয়োগে প্রভাব বিস্তার করতে পারে তাহলে দিন শেষে পুলিশ কমিশনও দলীয় অনুগতদের দ্বারা গঠিত হবে এবং তারা রাজনৈতিক স্বার্থ বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারি দলের পক্ষ নিয়ে পুলিশে দলীয়করণ করবে। উচ্চকক্ষের ৬০ শতাংশ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন হলে একটি ন্যূনতম ঐকমত্যের ভিত্তিতে কমিশন গঠন হবে এবং তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যরাই এই কমিশনে নিয়োগ পাবে। বলা বাহুল্য, তাদের অপসারণের ক্ষেত্রেও ৬০ শতাংশ সদস্যের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করতে হবে, যাতে নিয়োগের পরও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য সুরক্ষা থাকে। এমনকি, পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদায় পদোন্নতির ক্ষেত্রেও উচ্চকক্ষের ৬০ শতাংশ সদস্যের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে বেনজির, মামুন, শহিদুলদের মতো দলদাসরা নিয়োগ পেতে না পারে। এই পদ্ধতির আরেকটি সুবিধা হলো, নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা যদি বুঝতে পারে যে, একটি দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য বিতর্কিত কাজ করলে উচ্চকক্ষের অনুমোদন পেয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পদোন্নতি পাওয়া যাবে না, তাহলে তারাও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য উৎসাহিত হবে। পদায়নের ক্ষমতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছেই ন্যস্ত থাকবে, যাতে সরকার পরিচালনায় বাধা তৈরি না হয়। সামরিক বাহিনীগুলোতেও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সমপর্যায়ের ও তদূর্ধ্ব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও উচ্চকক্ষের ৬০ শতাংশ সদস্যের অনুমোদনের শর্ত প্রয়োগ করতে হবে, যাতে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গঠিত এসব প্রতিষ্ঠানের দলনিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়।

অনুরূপভাবে উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগ ও তাদের অপসারণ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বা সার্চ কমিটি ভিত্তিক পদ্ধতিগুলো কার্যকর নয়, কারণ সরকারি দল সহজেই এসব কাউন্সিল ও কমিটি গঠনে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। অন্যদিকে আনুপাতিক ভোটের ভিত্তিতে গঠিত উচ্চকক্ষের ৬০ শতাংশ সদস্যের অনুমোদনের শর্ত প্রয়োগ করা হলে বিচারক নিয়োগ ও অপসারণ এবং নির্বাচন ও দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় তুলনামূলকভাবে অধিকতর নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে। প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের বিচারক অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উচ্চকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদনের শর্ত আরোপ করা যেতে পারে। এ ছাড়া নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ও উপদেষ্টাবৃন্দের নিয়োগের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। ফলে পাঁচ বছর পরপর নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা বন্ধ করে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা যাবে।

আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের ৬০ শতাংশ সদস্যের অনুমোদনের শর্ত প্রয়োগের মাধ্যমে নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে এবং ক্ষেত্রভিত্তিক অন্যান্য সংস্কারকে টেকসই করা যাবে। উদাহরণস্বরূপ, এই শর্ত আরোপ করলে বিচার বিভাগ, প্রশাসন, নির্বাচনব্যবস্থা, পুলিশ বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষেত্রে যেসব সংস্কারমূলক আইন প্রণয়ন করা হবে, তা ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচিত সরকারের পক্ষে একতরফাভাবে পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো নিবর্তনমূলক আইন পাস করা এই ব্যবস্থায় অনেকাংশেই দুঃসাধ্য হয়ে উঠবে।

উপরোক্ত দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংকর পদ্ধতির দুর্বলতা হলো উচ্চকক্ষের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা প্রায়ই রাজনৈতিক মেরূকরণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যেখানে ৬০ শতাংশ সদস্যের ঐকমত্যের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো দুরূহ ও সময়সাপেক্ষ হবে। এ জন্য উচ্চকক্ষের অনুমোদনের শর্ত শুধু রাষ্ট্রের মৌলিক ও কাঠামোগত বিষয়ের ক্ষেত্রেই আরোপ করতে হবে। তাহলে এ সীমাবদ্ধতাই এই ব্যবস্থার শক্তিতে পরিণত হবে কেননা রাষ্ট্রের মৌলিক ও কাঠামোগত বিষয়ে একতরফাভাবে এবং দ্রুত পরিবর্তন রোধ করতে পারলেই সব সংস্কার টেকসই হবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গণতান্ত্রিক ভিত্তি মজবুত হবে।

লেখক: পোস্ট ডক্টরাল অ্যাসোসিয়েট ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র

islamul.haque@yale.edu