ছয় বছর আগে দেশ রূপান্তরের যে যাত্রার শুরু, তা সাত বছরে পা দেওয়ার আগের দিনটিতে আরও বড় লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় শোনা গেল প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা আর কর্মীদের মুখে। নতুন বছরে নতুন উদ্যমে প্রিয় প্রতিষ্ঠানকে আরও দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিতে চান তারা। এর জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন পাঠকের আস্থা আর ভালোবাসা, যেটি গত ছয় বছর ধরে রেখেছে দেশ রূপান্তর। আজ ২০ ডিসেম্বর তুমুল পাঠকপ্রিয় পত্রিকা দেশ রূপান্তর ছয় বছর পেরিয়ে সাতে পা রেখেছে। এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলা মোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দেশ রূপান্তরের প্রতিটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে একটি প্রতিপাদ্য থাকে। এ বছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ‘৬ এর ছন্দে’। আর এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে দেশ রূপান্তর এগিয়ে যাবে বলে প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা। অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করেন। একইসঙ্গে দেশ রূপান্তরের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রয়াত অমিত হাবিবকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন, প্রকাশক মাহির আলী খাঁন রাতুল, রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফ আলী খাঁন অতুল, দেশ রূপান্তর সম্পাদক মোস্তফা মামুন, রূপায়ণ গ্রুপের উপদেষ্টা ক্যাপ্টেন (অব.) পি. জে. উল্লাহ, এ এস এম শায়খুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল কালাম আজাদ, রূপায়ণ কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল (অব.) কবির উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দেশ রূপান্তরের প্রধান প্রতিবেদক আশরাফুল হক রাজীব।
রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন তার বক্তব্যে বলেন, ‘আজকে আমরা ছয় বছর পেরিয়ে সাত বছরে পদার্পণ করছি। এটা আমি মনে করি, দেশ রূপান্তরের সম্পাদক, প্রকাশকসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদেরই অবদান। আমরা দেশ রূপান্তরের জন্য বিভিন্ন জায়গায় সম্মানিত হয়েছি। এ সম্মানের জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’ দেশ রূপান্তরের সব কর্মীর উদ্দেশে লিয়াকত আলী খাঁন বলেন, ‘সব ব্যবসা কিন্তু রেভিনিউ দেয় না। সঙ্গে কিছু সিএসআরও থাকতে হয়। আমি মনে করি, দেশ রূপান্তরকে আমি সিএসআরের অংশ হিসেবে দেখেছি। আমি আপনাদের মতো যোগ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আনন্দিত। আমার জন্য এটা বিরাট পাওয়া।’
রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি মনে করি, ২০২৫ নতুন বছর, একটা সুবর্ণ সময়ের বছর এবং পরিবর্তনের সময়। সেখানে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেশ রূপান্তরেও এর ছোঁয়া লাগবে বলে আমি আশা করি। আমি উপস্থিত সবার মধ্যে যে অভিব্যক্তি দেখতে পাচ্ছি, মনে হচ্ছে তারা নতুন উদ্যম নিয়ে কাজ করবেন, এ থেকে আমি আশা করছি ২০২৫ আমাদের জন্য একটা সুন্দর বছর যাবে।’
দেশ রূপান্তর প্রকাশক ও রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খাঁন রাতুল তার বক্তব্যের শুরুতে দেশ রূপান্তরকে এগিয়ে নেওয়ায় পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, হকারসহ প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মীকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকটা প্রতিকূল বছর আমরা পার করেছি। তবে নতুন বছরে আমরা পরিবর্তনশীল জায়গায় যাচ্ছি।’ মাহির আলী খাঁন রাতুল বলেন, “দেশ রূপান্তর কিন্তু নীরব এবং নিরলসভাবে ‘এমপ্লয়ি ফার্স্ট’ এই জিনিসটা ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়েছে। এত প্রতিকূলতার ভেতরেও আমরা কিন্তু আমাদের সঙ্গে যারা কাজ করছেন তাদের ভালোমন্দ, তাদের পরিবার কী রকম থাকবে এবং আমাদের ব্যবসার চ্যালেঞ্জের জন্য কেউ যেন চাকরিচ্যুত না হন এ চিন্তাভাবনা কিন্তু প্রতিনিয়ত আমাদের ছিল এবং আশা করি আমরা আমাদের দায়িত্বটা ভালোভাবে পালন করতে পেরেছি। নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমাদের এ পরিবারটাকে টিকিয়ে রাখতে পেরেছি, আমি মনে করি সামনের দিনগুলোতে এর থেকেও সুন্দর সময় আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।” তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ রূপান্তর একই প্রচেষ্টায় সামনের বছর আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করে দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’
দেশ রূপান্তর সম্পাদক মোস্তফা মামুন বক্তব্যের শুরুতে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন ও সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আমাদের একটা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে। তবে এর মধ্যেও আনন্দের বিষয় যে, দেশ রূপান্তর মানুষের কাছে পরিচিত। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং সেই সময়ের যে বাস্তবতা, সবাই কিন্তু মনে করছে যে দেশ রূপান্তর সঠিক সাংবাদিকতা করেছে, সঠিক সাংবাদিকতার চেষ্টা করেছে, ভারসাম্যপূর্ণ সাংবাদিকতা করেছে। কেননা আমরা কোনোদিকেই হেলে ছিলাম না। আমরা চেষ্টা করেছি সংবাদকে সংবাদের মতো করে উপস্থাপনের এবং এ কারণেই কিন্তু আমরা কিছু ভালো ফল পাচ্ছি।’ মোস্তফা মামুন আরও বলেন, ‘নতুন বছরে বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটা পরিকল্পনা থাকবে। বিশেষ করে সব মানুষের কাছে দেশ রূপান্তরকে পৌঁছে দেওয়া হবে।’
দেশ রূপান্তর সম্পাদক বলেন, ‘মিডিয়া বা পত্রিকা অনেক কঠিন বিষয়। সেখানে অনেক কিছু সামাল দিতে হয়। সেখানে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও দেশ রূপান্তরের প্রকাশক অনেক কিছু সামাল দিচ্ছেন। আমাদের অনেক কিছু সামলে নিচ্ছেন, সামলে নিয়ে আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। তাদের তাড়না এবং প্রেরণায় আমাদের এগিয়ে চলা।’