রাজধানীতে শুরু হয়েছে আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা

রাজধানীর মিরপুর-১৩ (বিআরটিএ'র বিপরীতে) এর বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজ প্রাঙ্গনে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা। মেলায় পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় খাবার ও শস্য নিয়ে ১৮ টির অধিক স্টল রয়েছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত চলবে।

আজ শুক্রবার মেলার উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহাপ্রজ্ঞা এডুকেশন ট্রাস্টের সভাপতি ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথের। মেলার আয়োজন করেছে যৌথভাবে মহাপ্রজ্ঞা এডুকেশন ট্রাস্ট ও নাগরিক উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, আমাদের দেশে যে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয় তার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম অন্যতম। রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে প্রায় ৮২ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। আর দেশে যে পরিমাণ শাক-সবজি উৎপাদন হয় তার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে বেশি বিশুদ্ধ শাক-সবজি উৎপাদিত হয়। তাই আমাদের দায়িত্ব পাহাড়ি মানুষের খাদ্য, সংস্কৃতিকে রক্ষা করা।

উপদেষ্টা আরো বলেন, বাজারে ভেজাল খাদ্য বিক্রি বন্ধ করার জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথের বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ আর্থসামাজিকভাবে এখনো পিছিয়ে আছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে খুব অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী ঢাকায় পড়াশোনা করতে পারে। তাই আদিবাসীদের কথা ভেবে ঢাকায় আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজর মাধ্যমে আদিবাসীদের সাথে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সেতুবন্ধন রচিত হয়েছে এবং সর্বশেষ সকলের সমন্বিত পদক্ষেপের মধ্যে দিয়ে আদিবাসীদের খাদ্যভাসের সাথে সবাই পরিচিত লাভ করুক।

অনুষ্ঠানে  নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বাঙালিসহ ৫৪টির বেশি জনগোষ্ঠী বসবাসরত আছে। তার মধ্যে বাঙালি ভিন্ন অন্যান্য আদিবাসী জাতিসমূহের যে সংস্কৃতি, ভাষা, খাদ্যভাস ও বিশেষ কৃষি সেগুলো রক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. দিলিপ কুমার বড়ুয়া বলেন, বর্তমানে খাদ্যের মধ্যে আজ নানানভাবে বিষ মিশানো হচ্ছে। পাহাড়ি খাদ্য হচ্ছে ভেজাল মুক্ত খাদ্যের মধ্যে অন্যতম। এই মেলার মাধ্যমে দেশের সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক এক সম্পর্ক সৃষ্টি হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, পৃথিবীতে ৭০ কোটি মানুষ খাদ্যের অভাবে থাকে। বাংলাদেশে যে পরিমাণ খাদ্য অপচয় হচ্ছে যা উন্নত বিশ্বে তেমন লক্ষ্য করা যায় না। খাদ্য অপচয় না করে যারা খাদ্য পাচ্ছে না তাদের জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশে আবাদি জমি, কৃষি জমি নষ্ট করা হচ্ছে। তার মধ্যে আদিবাসীদের জায়গা জমি সবসময় দখলদারদের চোখে পড়ছে।

আয়োজকরা জানান, এই মেলার লক্ষ্য বাংলাদেশের আদিবাসী মানুষের জীবন-কৃষ্টি-সংস্কৃতি, আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী রন্ধন পদ্ধতিতে তেল ও মসলামুক্ত বাহারী স্বাদের খাবার এবং জুম পাহাড়ের অর্গানিক শস্যাদি সমতল মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।