বাঁধাকপি, ফুলকপি খেলে থাইরয়েড বাড়ে

শীতের সবজির তালিকায় প্রথম দিকে থাকে বাঁধাকপি, ফুলকপি বা পালং শাক। শীতের ফুলকপি খেতেও যেমন ভালো, তেমন নানা সুস্বাদু পদও রাঁন্না করা যায়। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় থাইরয়েড থাকলে। চিকিৎসকরা অনেক সময় বলে থাকেন, থাইরয়েড থাকলে বাঁধাকপি, ফুলকপির মতো সবজি না খেতে। কারণ এই জাতীয় সবজি থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।

রক্তে থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোনের পরিমাণ যদি বেড়ে যায়, তখন তাকে বলে ‘হাইপারথাইরয়েডিজম’ এবং হরমোনের পরিমাণ কমে গেলে বলা হয় ‘হাইপোথাইরয়েডিজম’। হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে শরীরের থাইরয়েড গ্ল্যান্ড পরিমাণ মতো হরমোন ক্ষরণ করে না। তাই চুল পড়ে যাওয়া, হৃদস্পন্দন কমে যাওয়া, বিপাক হার কমে ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়। দুই ক্ষেত্রেই খাওয়া-দাওয়ায় বিশেষ নজর দিতে হয়। থাইরয়েড বেড়ে গেলে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার যেমন পনির, চিজ ডায়েট থেকে বাদ দিতে হবে। বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি, ছোলা জাতীয় খাবার থাইরয়েড বাড়িয়ে দেয়। আবার মুলা, মিষ্টি আলু, চিনাবাদামও খাওয়া যায় না।

ফুলকপিতে গয়ট্রোজেন নামে এক ধরনের রাসায়নিক থাকে, যা থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে। সে জন্যই ফুলকপি বা বাঁধাকপির মতো সবজি খেতে বারণ করা হয়। ফুলকপি, বাঁধাকপি বা পালং শাক যদি ভালো করে সিদ্ধ করে পানি ফেলে দিয়ে তারপর রান্না করে খাওয়া যায়, তাহলে সমস্যা কম হবে।

ভালো করে সিদ্ধ করলে ওই রাসায়নিকের মাত্রা কমে যায়, তখন তা খেলে অত সমস্যা হয় না।

থাইরয়েড থাকলে এমন খাবার খেতে বলা হয়, যাতে কপার ও আয়রন বেশি পরিমাণে আছে। টাটকা মাংস, মাছ, ডিম, গমের আটা, কাজুতে প্রচুর পরিমাণে কপার ও আয়রন আছে। ভিটামিন সি আছে এমন ফল যেমনÑ লেবু, পেয়ারা, ক্যাপসিকাম খেতে পারেন। তবে ময়দার কোনো খাবার, শুকনো ফল, কফি, চকোলেট, ঠা-া পানীয় বেশি পরিমাণে খেলে থাইরয়েড বেড়ে যেতে পারে।