‘আ. লীগ গত ১৫ বছরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল’ 

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর, সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, আওয়ামী লীগ চৌদ্দগ্রামে বিগত ১৫ বছর ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তারা চৌদ্দগ্রামে কী পরিমাণ অন্যায়-অত্যাচার ও জুলুম করেছে উপস্থিত জনতা তার সাক্ষী। এর বেশি কিছু আমি বলবো না। কারো নাম ধরে আমি সমালোচনা করতে চাই না। আপনারা নিশ্চয়ই সবই বুঝেন-জানেন। আওয়ামী লীগ বিগত ১৫ বছরে শুধু চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নে তাদের দলীয় আটজন নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। এবার বুঝে নিন তারা বিরোধী দল-মতের বিরুদ্ধে কেমন অত্যাচার-নির্যাতন করেছিলো। তবে, জুলুমেরও একটা শেষ আছে। মহান আল্লাহর ধরা বড় এবং প্রকৃত ধরা। 

চৌদ্দগ্রামের শহীদ শিবির নেতা সাহাব উদ্দিন পাটোয়ারীর স্মৃতির কথা স্মরণ করে এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে অশ্রুসিক্ত নয়নে ডা. তাহের আরও বলেন, আজ শহীদ সাহাব উদ্দিন পাটোয়ারী বেঁচে থাকলে এ বিশাল প্রোগ্রামে স্বেচ্ছাসেবকের ড্রেস পরে আমার সামনে হাঁটাহাঁটি করতো। আজ আমি এটা মিস করছি। শুধু সাহাব উদ্দিন নয়, চৌদ্দগ্রামের আপামর জনসাধারণের ওপর কী অমানবিক অবিচার হয়েছে আপনারা তার সাক্ষী। আওয়ামী লীগের আমলে এই চৌদ্দগ্রামের মানুষ সম্মান পেতো না। এখানে আলেম-ওলামাসহ সিনিয়র সিটিজেনদের কোনো সম্মান ছিল না। তাদের সকলের সামনে অপমান করা হতো। আওয়ামী হেলমেট বাহিনী শুধু চৌদ্দগ্রামে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি করেই ক্ষান্ত হয়নি। তারা এ চৌদ্দগ্রামে মাদকের আখড়া বসিয়েছিলো। যুব সমাজকে ধ্বংসের ধারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলো। 

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্মরণকালের সেরা যুব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বিগত দিনে পৌরসভা প্রতিষ্ঠা, ৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ, উপজেলায় ৮৫ ভাগ বিদ্যুতায়ন (৩৫০ কিলোওয়াট), বড় বড় রাস্তাগুলো নির্মাণ  অসংখ্য ছোট রাস্তা নির্মাণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ  চৌদ্দগ্রামের কিছু মৌলিক কাজ করেছি। আল্লাহ যদি হায়াত দান করেন এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চৌদ্দগ্রামের মানুষের ভোটে আমি আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই, এই চৌদ্দগ্রামে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। চৌদ্দগামে কোনোরূপ অন্যায়-অত্যাচার, খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি ও কোনো প্রকার জুলুম-নির্যাতন থাকবে না। এ চৌদ্দগ্রাম হবে সমতার চৌদ্দগ্রাম। এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের লোকজন নিরাপদে থাকবে।

সম্মেলনে যুবকদের উদ্দেশ্যে জামায়াত নেতা ডা. তাহের বলেন, আমি চৌদ্দগ্রামের কোনো যুবককে বেকার দেখতে চাই না। তাদের বেকারত্ব দূরীকরণে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ। যুবকরা হয়তো চাকরি করবে, না হয় নিজ উদ্যোগে ছোট, মাঝারি ও বড় মাপের ব্যবসা করবে। এক্ষেত্রে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করবো ইনশাআল্লাহ। আর শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যার পরে বাহিরে অযথা আড্ডায় সময় না কাটিয়ে পড়ার টেবিলে মনোযোগী হবে। তারা ভালোভাবে পড়ালেখা করে সুশিক্ষিত হয়ে চৌদ্দগ্রামসহ সারাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ও দেশ গঠনে অবদান রাখার লক্ষ্যে নিজেদেরকে তৈরি করবে। তাদের হাত ধরেই এ দেশ একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।